ভোটের মুখে ধুন্ধুমার! একদিনেই ২৬৭ জন বিডিও-ওসি বদলি, কমিশনের চাঞ্চল্যকর সিদ্ধান্তে এবার হাইকোর্টে তৃণমূল

বিধানসভা নির্বাচনের ঘণ্টা বাজতেই রাজ্য প্রশাসনে বেনজির ওলটপালট। নির্বাচন কমিশনের এক কলমের খোঁচায় একদিনেই বদলি করা হলো ২৬৭ জন দুঁদে সরকারি আধিকারিককে। কমিশনের এই “মাস্টারস্ট্রোক” ঘিরে তৈরি হয়েছে তীব্র রাজনৈতিক বিতর্ক, যা এখন গড়াল কলকাতা হাইকোর্টের দোরগোড়ায়।

এক রাতেই বদলে গেল ১৭৩ থানার মুখ
রবিবার সন্ধ্যাবেলা কার্যত ঝড়ের গতিতে নির্দেশিকা জারি করে জাতীয় নির্বাচন কমিশন। রাজ্যের ১৭৩টি থানার ওসি (OC) এবং আইসি (IC)-সহ মোট ১৮৪ জন পুলিশ আধিকারিককে তৎক্ষণাৎ বদলির নির্দেশ দেওয়া হয়। এখানেই শেষ নয়, এর কয়েক ঘণ্টা আগেই দুপুরে ১৮টি জেলার ৮৩ জন বিডিও (BDO)-কে সরানোর নির্দেশ দিয়েছিল কমিশন। একদিনের ব্যবধানে এত বিশাল সংখ্যক প্রশাসনিক রদবদল রাজ্যের ইতিহাসে কার্যত নজিরবিহীন।

আদালতে যাচ্ছে তৃণমূল, সওয়াল করবেন কল্যাণ
কমিশনের এই ব্যাপক বদলিকে “রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত” বলে তোপ দেগেছে শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেস। সোমবার সকালেই এই সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে কলকাতা হাইকোর্টে মামলা দায়ের করেন প্রবীণ আইনজীবী তথা তৃণমূল সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। প্রধান বিচারপতি সুজয় পালের ডিভিশন বেঞ্চে এই মামলার দ্রুত শুনানির আবেদন জানানো হয়েছে। আদালত মামলার অনুমতি দিয়েছে; সবকিছু ঠিক থাকলে মঙ্গলবারই হবে এই হাই-ভোল্টেজ শুনানি।

এমসিসি-র কোপে বাঘা বাঘা আমলারা
গত ১৫ মার্চ রাজ্যে নির্বাচনী আচরণবিধি (MCC) চালু হওয়ার পর থেকেই অ্যাকশন মোডে রয়েছে কমিশন। এর আগে মুখ্যসচিব, স্বরাষ্ট্রসচিব এবং রাজ‍্য পুলিশের ডিজি-কে সরানো হয়েছিল। একে একে জেলাশাসক (DM) এবং পুলিশ সুপারদের (SP) সরিয়ে নিরপেক্ষ ভোটের বার্তা দিতে চাইছে কমিশন।

তৃণমূল বনাম অমিত শাহ: তুঙ্গে তরজা
এই রদবদল নিয়ে রাজনৈতিক পারদ এখন সপ্তমে। একদিকে ঘাসফুল শিবির যখন একে কেন্দ্রীয় এজেন্সির চাল হিসেবে দেখছে, ঠিক তখনই পালটা সুর চড়িয়েছেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। কলকাতা সফরে এসে তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, “অবাধ ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচনের স্বার্থে এই ধরনের রদবদল একটি স্বাভাবিক প্রশাসনিক প্রক্রিয়া।”

প্রশাসনিক এই টালমাটাল পরিস্থিতিতে এখন সব নজর কলকাতা হাইকোর্টের দিকে। কমিশনের এই নির্দেশে আদালত স্থগিতাদেশ দেয় নাকি বদলি বহাল থাকে, সেটাই এখন দেখার।