‘বিয়ে করব’ বলে ভাড়া নেওয়া ফ্ল্যাটে কোটির জিম্মাদারী! টাকা গুনতে আনল মেশিন, মালদহের ঘটনায় ফাঁস বড় চক্র

বীরভূমে বিপুল পরিমাণ নগদ অর্থ ও সোনা উদ্ধারের রেশ কাটতে না কাটতেই এবার মালদহে (Malda) আরও এক চাঞ্চল্যকর অভিযানে সামনে এল কোটি কোটি টাকার বেআইনি লেনদেনের হদিশ। মালদহের মঙ্গলবাড়ি এলাকার একটি আবাসনের ফ্ল্যাটে যৌথ অভিযান চালিয়ে বিপুল পরিমাণ নগদ টাকা, সোনা এবং নিষিদ্ধ কাফ সিরাপ উদ্ধার করল পুলিশ। এই ঘটনায় গোটা এলাকায় তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়েছে।
মালদহে উদ্ধার কোটি কোটি টাকা ও সোনা
গোপন সূত্রের খবরের ভিত্তিতে ওই ফ্ল্যাটে পৌঁছানোর পর তদন্তকারীরা যা দেখেন, তা দেখে চোখ কপালে ওঠার জোগাড় হয়। ঘরের আলমারি খুলতেই একের পর এক টাকার বান্ডিল বেরিয়ে আসে। এত বিপুল পরিমাণ নগদ অর্থ হাতে আসায় তা গোনার জন্য তড়িঘড়ি বিশেষ নগদ গোনার মেশিন (Cash Counting Machine) বা ৩টি মেশিন আনতে হয়। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, প্রাথমিক হিসাব অনুযায়ী রবিবার রাত পর্যন্ত প্রায় আড়াই কোটি টাকা গণনা করা সম্ভব হয়েছে। টাকার পাশাপাশি ফ্ল্যাট থেকে প্রচুর পরিমাণে সোনার গয়না ও সামগ্রীও উদ্ধার করা হয়েছে, যদিও তার সঠিক বাজারমূল্য বা পরিমাণ এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়নি।
কোন সূত্র ধরে এই হদিশ?
পুলিশ জানিয়েছে, রবিবার রাতে মালদহ থানা, দক্ষিণ দিনাজপুর জেলা পুলিশ এবং রাজ্য পুলিশের স্পেশাল অপারেশন টিম (SOT) যৌথভাবে এই আকস্মিক অভিযান চালায়। তদন্তকারীদের দাবি, এই বিশাল অভিযানের মূল সূত্রপাত হয়েছিল দক্ষিণ দিনাজপুরে মাদকবিরোধী একটি অভিযানের পর। প্রসঙ্গত, গত ৫ জুলাই একটি বিপুল পরিমাণ নিষিদ্ধ কাফ সিরাপ উদ্ধার এবং সেই ঘটনায় চারজনকে গ্রেফতার করা হয়েছিল। ধৃতদের পুলিশি হেফাজতে নিয়ে লাগাতার জিজ্ঞাসাবাদ করার পরই মালদহের এই নির্দিষ্ট ফ্ল্যাটটির সন্ধান পান তদন্তকারীরা। এর পরেই যৌথ বাহিনী কালবিলম্ব না করে ওই ঠিকানায় হানা দেয়।
কার ফ্ল্যাট, কে ছিল ভাড়াটে?
পুলিশের প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, যে ফ্ল্যাটে এই বিপুল নগদ টাকার পাহাড় মিলেছে, তার আসল মালিক দিলীপ সাহা। স্থানীয় রাজনৈতিক মহলে তিনি তৃণমূল কর্মী হিসেবে পরিচিত। যদিও এই ঘটনার পর দিলীপবাবুর দাবি, তিনি ফ্ল্যাটটি অন্য একজনকে ভাড়া দিয়েছিলেন এবং সেখানে বসবাসকারী ব্যক্তি বা ভাড়াটেরা আসলে কী ধরনের অবৈধ কাজকর্মের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন, সে বিষয়ে তাঁর বিন্দুমাত্র কোনো ধারণাই ছিল না। তদন্তে উঠে এসেছে, ওই ফ্ল্যাটে পিন্টু সরকার নামক এক ব্যক্তি নিয়মিত ভাড়াটে হিসেবে থাকতেন।
তদন্তকারীদের প্রাথমিক অনুমান, উদ্ধার হওয়া এই বিপুল অঙ্কের টাকার সঙ্গে নিষিদ্ধ কাফ সিরাপ পাচারের অবৈধ কারবারের সরাসরি যোগ রয়েছে। মাদক পাচার চক্রের কালো টাকা সাদা করতেই এই অর্থ ব্যবহার করা হতো কি না, তা গভীরভাবে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্তকারীদের জোরালো আশা, এই চক্রের নেপথ্যে থাকা মূল কারবারিদের চিহ্নিত করতে এবং এই জাল কতদূর বিস্তৃত, তা জানতে ধৃত ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের দ্রুত জেরা করা হবে।