মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের দামামা! এর মাঝেই ভারতের মাস্টারস্ট্রোক, সস্তা হচ্ছে পেট্রোল-ডিজেল?

মধ্যপ্রাচ্যের রণক্ষেত্রে ঘনীভূত হচ্ছে যুদ্ধের মেঘ। ইরান, আমেরিকা এবং ইজরায়েলের মধ্যকার ক্রমবর্ধমান উত্তেজনায় কাঁপছে বিশ্ব জ্বালানি বাজার। জোগান ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কায় যখন গোটা দুনিয়া চিন্তিত, ঠিক তখনই ভারতের জন্য এল এক স্বস্তির খবর। আন্তর্জাতিক অস্থিরতার মধ্যেই ভারতের জ্বালানি সংকট মেটাতে বিশেষ ‘ছাড়’ দিচ্ছে বন্ধু দেশ ইরান।

ইরানের বিশেষ ছাড় ও হরমুজ প্রণালীর ভূমিকা
সূত্রের খবর, যুদ্ধ পরিস্থিতির মধ্যেও ভারতের সাথে দীর্ঘকালীন কূটনৈতিক সম্পর্ক বজায় রাখতে তৎপর তেহরান। অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ‘হরমুজ প্রণালী’ দিয়ে ভারতে জ্বালানি সরবরাহের ক্ষেত্রে বিশেষ ছাড় দেওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছে ইরান। এর ফলে বিশ্ববাজারে তেলের আকাল থাকলেও ভারতে জোগান স্বাভাবিক থাকবে বলেই মনে করা হচ্ছে।

এক ধাক্কায় ১০ টাকা কমছে শুল্ক!
দেশের বাজারে আকাশছোঁয়া পেট্রোল-ডিজেলের দাম এবং রান্নার গ্যাসের মূল্যে নাভিশ্বাস উঠছে সাধারণ মানুষের। এই পরিস্থিতিতে আমজনতাকে বড়সড় স্বস্তি দিতে ময়দানে নামল কেন্দ্র সরকার। জানা গেছে, প্রতি লিটার জ্বালানিতে ১০ টাকা করে শুল্ক (Excise Duty) কমানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। যদিও এতে সরকারের কোষাগারে কয়েক হাজার কোটি টাকার টান পড়বে, তবুও সাধারণ মানুষের স্বার্থকেই অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে।

চালু হচ্ছে নয়া ‘১৫ দিনের’ নীতি
শুধুমাত্র শুল্ক কমানোই নয়, জ্বালানি নীতিতেও বড় বদল আনছে কেন্দ্র। এবার থেকে আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের (Crude Oil) দামের ওঠানামার সাথে সামঞ্জস্য রেখে প্রতি ১৫ দিন অন্তর পেট্রোল ও ডিজেলের দাম পর্যালোচনা করা হবে। এর ফলে বিশ্ববাজারে দাম কমলে তার সরাসরি সুফল পাবেন ভারতীয় উপভোক্তারা।

স্থিতিশীলতার পথে বাজার
সরকারি সূত্রে জানানো হয়েছে, তেলের দাম নিয়ন্ত্রণে রেখে মুদ্রাস্ফীতির ওপর লাগাম টানাই এই পদক্ষেপের মূল লক্ষ্য। আন্তর্জাতিক ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতা বজায় থাকলেও, কেন্দ্রের এই জোড়া কৌশলে ভারতের জ্বালানি বাজার আগামী দিনে অনেকটাই স্থিতিশীল হবে বলে আশা করা হচ্ছে।