মমতার বিরুদ্ধে দিল্লিতে নালিশ বিজেপির! FIR দায়েরের দাবি তুলে নির্বাচন কমিশনে হাজির হেভিওয়েট কেন্দ্রীয় মন্ত্রীরা

বাংলার বিধানসভা নির্বাচনের নির্ঘণ্ট ঘোষণা হতেই রাজনৈতিক পারদ চড়ছে তুঙ্গে। এবার সরাসরি মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে নির্বাচন কমিশনের দ্বারস্থ হল বিজেপি। অভিযোগ, তৃণমূল নেত্রীর নেতৃত্বে শাসকদলের সভাগুলি থেকে পরিকল্পিতভাবে ‘ভয় ও উস্কানিমূলক’ পরিবেশ তৈরি করা হচ্ছে।
দিল্লিতে নালিশ, সই হেভিওয়েট নেতাদের
সোমবার দিল্লির নির্বাচন সদনে মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের কাছে লিখিত অভিযোগ জমা দেয় বিজেপির একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি দল। এই চিঠিতে সই করেছেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী পীযূষ গোয়েল, কিরেণ রিজিজু, বিজেপির সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অরুণ সিং এবং রাজ্য বিজেপি সভাপতি তথা কেন্দ্রীয় প্রতিমন্ত্রী সুকান্ত মজুমদার।
নিশানায় মমতা ও মহুয়া
বিজেপির পক্ষ থেকে জমা দেওয়া চিঠিতে নির্দিষ্ট কিছু সভার উল্লেখ করা হয়েছে:
২৫ মার্চ: ময়নাগুড়ি ও নকশালবাড়ির সভা।
২৬ মার্চ: পাণ্ডবেশ্বরের জনসভা।
২৮ মার্চ: তৃণমূল সাংসদ মহুয়া মৈত্র-র কলকাতার একটি সাংবাদিক বৈঠক।
গেরুয়া শিবিরের দাবি, এই সব সভায় করা মন্তব্যগুলি আদর্শ নির্বাচনী আচরণবিধি (MCC) এবং আইন ভঙ্গ করেছে। পরিস্থিতিকে ‘ভয়াবহ’ আখ্যা দিয়ে ভারতীয় ন্যায় সংহিতা ও জনপ্রতিনিধিত্ব আইনের আওতায় FIR দায়ের করার দাবিও তোলা হয়েছে।
পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন ও অতিরিক্ত বাহিনীর দাবি
রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে রীতিমতো সরব হয়েছে বিজেপি। স্থানীয় পুলিশকে ‘নিষ্ক্রিয় ও পক্ষপাতদুষ্ট’ বলে অভিযোগ করে তারা দাবি জানিয়েছে:
স্পর্শকাতর এলাকায় অতিরিক্ত কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন করতে হবে।
আরও বেশি সংখ্যক IAS ও IPS পর্যবেক্ষক নিয়োগ করতে হবে।
যদিও বিজেপির এই সমস্ত অভিযোগকে বিন্দুমাত্র গুরুত্ব দিতে নারাজ তৃণমূল কংগ্রেস। ঘাসফুল শিবিরের দাবি, হারের ভয়েই কেন্দ্রীয় এজেন্সি ও কমিশনের দ্বারস্থ হচ্ছে বিজেপি।
ভোটের সমীকরণ
আগামী ২৩ এপ্রিল এবং ২৯ এপ্রিল— দুই দফায় বাংলায় বিধানসভা নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।
প্রথম দফা: ১৫২টি আসন।
দ্বিতীয় দফা: ১৪২টি আসন।
ইতিমধ্যেই রাজ্যে কেন্দ্রীয় বাহিনী রুট মার্চ শুরু করেছে। ভোট যত এগোচ্ছে, অভিযোগ-পালটা অভিযোগে বাংলার রাজনৈতিক পরিস্থিতি ততই উত্তপ্ত হয়ে উঠছে। এখন দেখার, বিজেপির এই চিঠির ভিত্তিতে নির্বাচন কমিশন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে কোনও কড়া পদক্ষেপ গ্রহণ করে কি না।