পাকস্থলীতে বালি, শ্বাসনালীতে নোনা জল! রাহুলের মৃত্যু কি নিছক দুর্ঘটনা? রহস্যের জট খুলছে ময়নাতদন্তে

অভিনেতা রাহুল অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্যায়ের অকাল প্রয়াণে শোকস্তব্ধ টলিপাড়া। সোমবার দুপুরে তমলুক হাসপাতাল সূত্রে ময়নাতদন্তের যে প্রাথমিক রিপোর্ট সামনে এসেছে, তা রীতিমতো চাঞ্চল্যকর। রিপোর্ট বলছে, রাহুলের মৃত্যু স্রেফ জলে ডুবেই হয়েছে, তবে সেই মৃত্যুর নেপথ্যে রয়েছে চরম শারীরিক যন্ত্রণা ও এক দীর্ঘ সময়ের লড়াই।
ময়নাতদন্তের রিপোর্টে শিউরে ওঠার মতো তথ্য:
প্রাথমিক ময়নাতদন্তের তথ্য অনুযায়ী, অভিনেতার ফুসফুস ও শরীরের অভ্যন্তরে যা পাওয়া গিয়েছে তা ভাবিয়ে তুলছে চিকিৎসকদের। রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে:
রাহুলের ফুসফুসের ভেতরে প্রচুর পরিমাণে বালি এবং নোনা জল জমেছিল।
জল ও বালি প্রবেশের ফলে ফুসফুস স্বাভাবিকের চেয়ে ফুলে প্রায় দ্বিগুণ হয়ে যায়।
শুধু ফুসফুস নয়, খাদ্যনালি, শ্বাসনালি এমনকি পাকস্থলির ভেতরেও বালি ও জল মিলেছে।
চিকিৎসকদের অনুমান, রাহুল প্রায় ১ ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে জলের নিচে ছিলেন। অল্প সময় জলে ডুবে থাকলে শরীরে এতটা বালি বা জল ঢোকার কথা নয়। এই তথ্য ঘিরেই তৈরি হয়েছে নতুন রহস্য।
তদন্তের মূল চাবিকাঠি শুটিংয়ের ক্যামেরা ফুটেজ:
‘ভোলেবাবা পার করেগা’ ধারাবাহিকের রবিবারের শুটিংয়ের ক্যামেরা ফুটেজ ইতিমধেই বাজেয়াপ্ত করেছে পুলিশ। তদন্তকারীরা মনে করছেন, ঘটনার সময় আসলে কী ঘটেছিল, তা ওই ফুটেজেই স্পষ্ট হবে। অভিনেতা দিগন্ত বাগচীর দাবি, শুটিং শেষ হওয়ার পর রাহুল জলে নামেন। হঠাৎই টেকনিশিয়ানরা দেখেন রাহুল ডুবে যাচ্ছেন। তৎক্ষণাৎ উদ্ধার করা হলেও হাসপাতালে যাওয়ার পথেই নিথর হয়ে পড়েন তিনি। অন্যদিকে, লীনা গঙ্গোপাধ্যায় জানিয়েছেন, ওইদিন গভীর জলে নামার কোনও দৃশ্যই ছিল না। তবে কেন ভর সন্ধ্যায় রাহুল জলে নামলেন? উত্তর খুঁজছে পুলিশ।
ক্ষোভে ফুঁসছে টলিপাড়া, তদন্তের দাবি:
রাহুলের মৃত্যুকে কেন্দ্র করে টলিপাড়ার ভেতরে ক্ষোভ দানা বাঁধছে। অভিনেত্রী সুদীপ্তা চক্রবর্তী শুরু থেকেই এই ঘটনায় নিরপেক্ষ ও পূর্ণাঙ্গ তদন্তের জোরালো দাবি তুলেছেন। অন্যদিকে, অভিনেত্রী রূপাঞ্জনা মিত্র সরাসরি পশ্চিমবঙ্গ মোশন পিকচার্স আর্টিস্ট ফোরামকে নিশানা করেছেন। তিনি পুলিশি তদন্তের পাশাপাশি সোশ্যাল মিডিয়ায় এই বিষয়ে জনমত তৈরির ডাক দিয়েছেন।
বিজয়গড়ে শেষ মুহূর্তের অপেক্ষা:
তমলুক হাসপাতাল থেকে রাহুলের দেহ নিয়ে ইতিমধেই কলকাতার পথে রওনা হয়েছে শববাহী গাড়ি। সঙ্গে রয়েছেন তাঁর গাড়িচালক এবং ধারাবাহিকের প্রোডাকশন ম্যানেজার। সোমবার বিকেলে বিজয়গড়ে মরদেহ পৌঁছানোর কথা। প্রিয় অভিনেতাকে শেষবার দেখার অপেক্ষায় ভিড় জমিয়েছেন অনুরাগী ও প্রতিবেশীরা।