আলু ১২ টাকা কেজি, চাষি পাচ্ছে মাত্র ১ টাকা! মাঝপথে উবে যাচ্ছে ১১ টাকা, পকেটে ভরছে কে?

এ এক অদ্ভুত বৈপরীত্য! একদিকে কলকাতার বাজারে আলুর দাম সাধারণ মানুষের নাগালে থাকলেও, অন্যদিকে গ্রামবাংলার আলু চাষিদের ঘরে জ্বলছে শোকের আগুন। চন্দ্রকোণা থেকে গলসি হয়ে গোঘাট—রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে একের পর এক আলু চাষির আত্মহত্যার খবর আসছে। অভিযোগ একটাই, হাড়ভাঙা খাটুনির পর ফসলের সঠিক দাম না পাওয়া এবং ঋণের বোঝা। কিন্তু প্রশ্ন উঠছে, বাজারে যেখানে আলু কেজি প্রতি ১২ টাকায় বিক্রি হচ্ছে, সেখানে চাষির পকেটে কেন ঢুকছে মাত্র ১ টাকা? বাকি ১১ টাকা কার পকেটে যাচ্ছে?
অঙ্কের হিসেবে মহাবিপদ: চাষিদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ৫০ কেজি আলু ফলাতে খরচ হচ্ছে প্রায় ৩৭৫ টাকা। মাঠ থেকে সেই আলু বাছাই করে প্যাকেটজাত করে হিমঘর পর্যন্ত পৌঁছাতে অতিরিক্ত খরচ ৭৫ টাকা। অর্থাৎ এক বস্তা আলুর পেছনে চাষির মোট লগ্নি ৪৫০ টাকা। সেখানে সরকারি সহায়ক মূল্য ধার্য হয়েছে ৪৭৫ টাকা। অর্থাৎ তিন মাস হাড়ভাঙা খাটুনির পর এক বস্তা আলুতে চাষির লাভ দাঁড়াচ্ছে মাত্র ২৫ টাকা! বিঘা প্রতি হিসাব করলে লাভ বড়জোর ২০০০ টাকা। ৩৫ থেকে ৪০ হাজার টাকা বিনিয়োগ করে তিন মাস পর মাত্র ২ হাজার টাকা লাভ দেখে দিশেহারা কৃষকরা।
বিপুল উৎপাদনই কি কাল হলো? এবছর রাজ্যে আলুর ফলন হয়েছে প্রায় দেড় কোটি টন। অথচ রাজ্যের চাহিদা মাত্র ৬০ লক্ষ টন। হিমঘরগুলির ধারণক্ষমতা ৮২ লক্ষ মেট্রিক টন। সরকার কিনবে মাত্র ১২ লক্ষ মেট্রিক টন। ফলে প্রশ্ন উঠছে, বাকি বিপুল পরিমাণ আলু যাবে কোথায়? চাহিদার তুলনায় জোগান বেশি হওয়ায় এবং হিমঘরে জায়গা না থাকায় জলের দরে ফসল বিক্রি করতে বাধ্য হচ্ছেন চাষিরা।
মুখ্যমন্ত্রীর আশ্বাস: সঙ্কটজনক এই পরিস্থিতিতে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জানিয়েছেন, “অকাল বৃষ্টির জেরে চাষিদের ক্ষতি হয়েছে। তবে উদ্বেগের কারণ নেই। রাজ্য সরকার শস্যবিমার প্রিমিয়াম দেয়। ক্ষতিগ্রস্ত চাষিরা নির্দিষ্ট নিয়ম মেনে ক্ষতিপূরণ পাবেন।” যদিও চাষিদের অভিযোগ, সরকারি স্তরে আলু কেনার প্রক্রিয়া এখনও সর্বত্র পুরোদমে শুরু হয়নি। মধ্যস্বত্বভোগীদের দাপট নাকি সরকারি পরিকল্পনার অভাব—ঠিক কার জন্য ১১ টাকা গায়েব হয়ে যাচ্ছে, সেই উত্তর খুঁজছেন প্রান্তিক চাষিরা।