“টাকার প্রলোভন আর এজেন্সির ভয়ে পা দেবেন না,” ভোটের আগে বিজেপি-কে রুখতে রণংদেহি মেজাজে দিদি!

বিধানসভা নির্বাচনের দামামা বাজতেই তপ্ত বাংলার রাজনীতি। শুক্রবার তৃণমূলের বহুপ্রতীক্ষিত নির্বাচনী ইস্তেহার প্রকাশের কথা, কিন্তু তার আগেই সাংবাদিক বৈঠক থেকে বিজেপির বিরুদ্ধে কার্যত যুদ্ধ ঘোষণা করলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সুর চড়িয়ে তৃণমূল নেত্রী স্পষ্ট জানিয়ে দিলেন, “বাংলার মানুষকে আঘাত করলে তারা প্রত্যাঘাত করতে জানে।” রাজ্যের ২৯১টি আসনে প্রার্থী ঘোষণার পর আজ ইস্তেহার বা ‘প্রতিজ্ঞা’ প্রকাশ করতে চলেছে শাসক দল।
এদিনের সাংবাদিক বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী অভিযোগ করেন, কেন্দ্রীয় এজেন্সি এবং টাকার জোরে বাংলা দখলের চক্রান্ত করছে বিজেপি। তিনি বলেন, “মানুষকে বলব জোটবদ্ধ হোন। শান্তি ও সম্প্রীতি রক্ষা করতে হলে বিজেপি-কে এমন শিক্ষা দিন যা তারা মনে রাখবে।” তাঁর বিস্ফোরক দাবি, রাজ্যে অলিখিতভাবে রাষ্ট্রপতি শাসন জারি করা হয়েছে এবং মাফিয়াদের মাধ্যমে বর্ডার দিয়ে টাকা ঢোকানো হচ্ছে। এমনকি আইএএস ও আইপিএস অফিসারদের বদলি নিয়েও নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দেন তিনি।
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সবচেয়ে বড় অভিযোগটি ছিল রাজ্যের অখণ্ডতা নিয়ে। তিনি দাবি করেন, “মোদী সরকার বুঝতে পেরেছে তারা আর জিতবে না, তাই উত্তরবঙ্গ ও বিহারের কিছু অংশ নিয়ে নতুন রাজ্য গড়ার চক্রান্ত চলছে। ভোটের পর ডিলিমিটেশন বা সীমানা পুনর্বিন্যাসের নামে বাংলা ভাঙার পরিকল্পনা করা হচ্ছে।” এনআরসি এবং ডিলিমিটেশনের মাধ্যমে মানুষের নাম বাদ দেওয়ার ষড়যন্ত্র চলছে বলেও তিনি সতর্ক করেন। এদিনের এই রণংদেহি মেজাজ বুঝিয়ে দিল, আসন্ন ভোট কেবল ক্ষমতার লড়াই নয়, তৃণমূলের কাছে এটি ‘বাংলা রক্ষার’ লড়াই।