১০০০ কিমি জুড়ে মহাপ্রলয়ের ভ্রুকুটি! ভারত-পাকিস্তান সীমান্তে প্রকৃতির রুদ্ররূপ, কাঁপছে তিন দেশ!

প্রকৃতির এক অদ্ভুত এবং ভয়ঙ্কর খেয়াল প্রত্যক্ষ করতে চলেছে দক্ষিণ এশিয়া। সাধারণত মার্চ মাসে যখন গরম পড়ার কথা, তখন এক বিশাল এবং অস্বাভাবিক আবহাওয়া পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে ভারত, পাকিস্তান এবং আফগানিস্তানে। প্রায় ১০০০ কিলোমিটার দীর্ঘ একটি ঘূর্ণাবর্ত বা ‘ওয়েস্টার্ন ডিস্টার্বেন্স’ (পশ্চিমী ঝঞ্ঝা) একেবারে সোজা রেখার মতো আফগানিস্তান থেকে পাকিস্তান হয়ে ভারতে প্রবেশ করেছে। আবহাওয়া বিজ্ঞানীদের মতে, এই ধরণের গঠন অত্যন্ত বিরল এবং বিপজ্জনক।
এই দানবীয় ঝঞ্ঝার জেরে উত্তর-পশ্চিম ভারতে ব্যাপক ঝড়, শিলাবৃষ্টি এবং বজ্রপাতের সতর্কতা জারি করা হয়েছে। ঝোড়ো হাওয়ার গতিবেগ ঘণ্টায় ৪০ থেকে ৮০ কিলোমিটার পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে। এর প্রভাব ইতিমধ্যেই পড়তে শুরু করেছে পশ্চিমবঙ্গ ও সিকিমে, যেখানে ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। দক্ষিণ ভারতের কেরালা, কর্ণাটক এবং অন্ধ্রপ্রদেশেও প্রবল বর্ষণের সম্ভাবনা রয়েছে।
দিল্লিতে তাপমাত্রা স্বাভাবিকের চেয়ে অনেকটাই নিচে নেমে ২৫-২৮ ডিগ্রি সেলসিয়াসের আশেপাশে ঘোরাফেরা করছে। আবহাওয়া দফতর জানাচ্ছে, ২২ মার্চ থেকে আরও একটি নতুন ঝঞ্ঝা ধেয়ে আসছে। জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে জেট স্ট্রিমের অস্বাভাবিক আচরণের কারণেই এই বিপর্যয় বলে মনে করা হচ্ছে। এই মরসুমে এপ্রিল পর্যন্ত ঝঞ্ঝার সংখ্যা বাড়তে পারে, যা কৃষিকাজ ও জনজীবনের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াবে।