মমতা বনাম শুভেন্দু: ভবানীপুরের মাটিতে দাঁড়িয়েই তৃণমূলকে ‘ছিন্নমূল-তোলামূল’ খোঁচা বিরোধী দলনেতার!

২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনে বাংলার সবথেকে বড় ‘ব্যাটলগ্রাউন্ড’ হতে চলেছে ভবানীপুর। বৃহস্পতিবার সেই কেন্দ্রে পা রেখেই মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে সরাসরি চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিলেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। নন্দীগ্রামের জয়ের স্মৃতি উস্কে দিয়ে শুভেন্দু দাবি করলেন, এবার ভবানীপুরের মাটিতে দাঁড়িয়েই তিনি মুখ্যমন্ত্রীকে ২৫ হাজার ভোটের ব্যবধানে পরাজিত করবেন।

তৃণমূলকে কড়া আক্রমণ: এদিন ভবানীপুরে প্রচারে এসে শুভেন্দু অধিকারী তৃণমূল কংগ্রেসকে ‘তোলামূল’ এবং ‘ছিন্নমূল’ বলে কটাক্ষ করেন। তিনি বলেন, “ছিন্নমূল তোলামূল সব জায়গায় হারবে। ভবানীপুর এবার পরিবর্তন দেখবে।” তৃণমূলের পক্ষ থেকে তাঁকে ‘বহিরাগত’ বলে দাগিয়ে দেওয়ার যে চেষ্টা চলছে, তাকেও এদিন উড়িয়ে দিয়েছেন তিনি। শুভেন্দুর পালটা তোপ, “তৃণমূলের সার্টিফিকেটের অপেক্ষা আমি করি না। ওরা তো খোদ দেশের প্রধানমন্ত্রীকেও বহিরাগত বলে গালি দেয়।”

নন্দীগ্রামের ছায়া ভবানীপুরে: শুভেন্দু মনে করিয়ে দিয়েছেন যে, একুশের ভোটে নন্দীগ্রামে তিনি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে পরাজিত করেছিলেন। এবার সেই একই চিত্রনাট্য ভবানীপুরেও সফল হবে বলে তাঁর বিশ্বাস। ভবানীপুর কেন্দ্রটি মমতার ‘পৈতৃক ভিটে’ এবং শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত হলেও শুভেন্দুর আত্মবিশ্বাসী হুঙ্কার রাজ্য রাজনীতিতে নতুন সমীকরণের জন্ম দিয়েছে।

রাজনৈতিক উত্তেজনা তুঙ্গে: শুভেন্দুর এই ২৫ হাজারের চ্যালেঞ্জের পর তৃণমূলের অন্দরেও চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। শাসকদলের পালটা দাবি, ভবানীপুরের মানুষ তাঁদের ঘরের মেয়েকেই বেছে নেবেন। তবে বিরোধী দলনেতার এমন আক্রমণাত্মক মেজাজ বুঝিয়ে দিচ্ছে যে, ২০২৬-এর লড়াইয়ে ভবানীপুর কেন্দ্রটি এবার আক্ষরিক অর্থেই ‘পাখির চোখ’ হতে চলেছে।