‘মমতার নির্দেশে আমাকে খুনের ছক কষেছিলেন হুমায়ুন!’ অধীরের বিস্ফোরক অভিযোগে তোলপাড় বাংলা!

২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনের রণদামামা বাজার সাথে সাথেই মুর্শিদাবাদের রাজনীতিতে ছড়াল চরম উত্তেজনা। ডোমকলের তৃণমূল প্রার্থী তথা প্রাক্তন আইপিএস অফিসার হুমায়ুন কবীরের বিরুদ্ধে সরাসরি খুনের ষড়যন্ত্রের অভিযোগ তুললেন প্রদেশ কংগ্রেসের দাপুটে নেতা অধীর চৌধুরী। অধীরের দাবি, মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নির্দেশে তাঁকে প্রাণে মেরে ফেলার ছক কষেছিলেন এই ‘কুখ্যাত’ পুলিশ কর্তা। এই মন্তব্য ঘিরে নির্বাচনের মুখে রাজ্য রাজনীতিতে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।

অধীরের বিস্ফোরক দাবি: বৃহস্পতিবার বহরমপুরে এক সাংবাদিক বৈঠকে অধীর চৌধুরী বলেন, “হুমায়ুন কবীর একজন কুখ্যাত পুলিশ অফিসার ছিলেন। কত পরিবারকে তিনি ধ্বংস করেছেন তার ইয়ত্তা নেই। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ইশারায় আমাকেও খুন করতে চেয়েছিলেন তিনি।” অধীরের এই মন্তব্যে কার্যত শোরগোল পড়ে গেছে। উল্লেখ্য, এবার বামেদের হাত ছেড়ে কংগ্রেস একলা লড়ার সিদ্ধান্ত নেওয়ায় অধীর চৌধুরীর বহরমপুর থেকে প্রার্থী হওয়া নিয়ে জল্পনা তুঙ্গে।

হুমায়ুনের পালটা চ্যালেঞ্জ: অধীরের এই গুরুতর অভিযোগকে স্রেফ ‘হাস্যকর’ বলে উড়িয়ে দিয়েছেন তৃণমূল প্রার্থী হুমায়ুন কবীর। তিনি বলেন, “একজন মুখ্যমন্ত্রী কি কখনও কোনো এসপি-কে এমন নির্দেশ দিতে পারেন? আমি আইপিএস অফিসার ছিলাম, প্রয়োজনে অপরাধীদের এনকাউন্টার করেছি ঠিকই, কিন্তু খুনের ষড়যন্ত্র কেন করব? অধীরবাবু যদি এসব কথা বলে থাকেন, তবে তার প্রমাণ দেখান। এটা পুরোপুরি মিথ্যা এবং ছেলেমানুষি কথা।”

কংগ্রেসের প্রার্থী তালিকা নিয়ে ধোঁয়াশা: রাজ্যে তৃণমূল, বিজেপি এবং বামেরা তাদের প্রার্থী তালিকা ঘোষণা করে দিলেও কংগ্রেস এখনও পিছিয়ে। সূত্রের খবর, ইদের পরেই সম্ভবত এ রাজ্যে কংগ্রেসের চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকা প্রকাশিত হবে। স্ক্রিনিং কমিটির বৈঠক এখনও ঝুলে থাকায় ১৪৪ আসনে বিজেপি বা ১৯২ আসনে বামেদের তুলনায় কংগ্রেসের প্রচার প্রস্তুতি কিছুটা ধীর গতিতে চলছে। তবে অধীর চৌধুরীর এই ব্যক্তিগত আক্রমণ প্রমাণ করে দিচ্ছে যে, মুর্শিদাবাদে এবারের লড়াই হবে এক ইঞ্চি জমিও না ছাড়ার।