দেওয়াল লিখন ঘিরে রণক্ষেত্র সপ্তগ্রাম! তৃণমূলের বিরুদ্ধে সিপিএম কর্মীকে বেধড়ক মারধরের অভিযোগ!

২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনের নির্ঘণ্ট প্রকাশ হতে না হতেই উত্তপ্ত হয়ে উঠল হুগলির সপ্তগ্রাম। দেওয়াল লিখনকে কেন্দ্র করে তৃণমূল ও সিপিএম কর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষে রণক্ষেত্রের চেহারা নিল বাঁশবেড়িয়া এলাকা। সিপিএমের অভিযোগ, তাদের কর্মীকে বেধড়ক মারধর করেছে তৃণমূল আশ্রিত দুষ্কৃতীরা। পাল্টা তৃণমূলের দাবি, দেওয়াল দখলের রাজনীতি শুরু করেছে বামেরাই।
ঘটনার সূত্রপাত: বাঁশবেড়িয়া গ্যাঞ্জেস জুটমিলের দেওয়ালে সপ্তগ্রামের সিপিএম প্রার্থী অনির্বাণ সরকারের সমর্থনে প্রচার চালাচ্ছিলেন বাম কর্মীরা। অভিযোগ, সেই সময় তৃণমূলের একদল লোক এসে দেওয়াল মুছে দেওয়ার নিদান দেয়। বাধা দিলে এক সিপিএম কর্মীর ওপর চড়াও হয়ে তাঁকে মারধর করা হয় বলে দাবি করেছে বাম নেতৃত্ব। অনির্বাণ সরকার বলেন, “তৃণমূল আসলে বার্তা দিতে চাইছে যে তারা শান্তিপূর্ণ ভোট হতে দেবে না। প্রাথমিক প্রচারেই যদি বাধা দেওয়া হয়, তবে নির্বাচনের দিন কী হবে বোঝা যাচ্ছে।”
তৃণমূলের পালটা দাবি: মারধরের অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছেন বাঁশবেড়িয়া পুরসভার কাউন্সিলর মহম্মদ সাহিদ। তাঁর দাবি, গত লোকসভা নির্বাচনে রচনা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সমর্থনে লেখা তৃণমূলের দেওয়ালগুলো গায়ের জোরে চুন কাম করে দখল করছিল সিপিএম। তৃণমূল কর্মীরা শুধু তাতে বাধা দিয়েছে। সাহিদের কথায়, “মারধর করা হয়নি, শুধু বলা হয়েছে নিজেদের দেওয়াল নিজেরা লিখুন। অন্যের জায়গা দখল করবেন না।”
তপ্ত সপ্তগ্রাম: নির্বাচন কমিশনের কড়া নজরদারির মধ্যেই হুগলির এই ঘটনায় এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে। অনির্বাণ সরকার জানিয়েছেন, এই ঘটনার বিষয়ে তাঁরা কমিশনের কাছে অভিযোগ জানাবেন। ভোটের নির্ঘণ্ট ঘোষণা হতেই দেওয়াল দখলকে কেন্দ্র করে এই অশান্তি আগামী দিনে বড় সংঘাতের ইঙ্গিত দিচ্ছে বলেই মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।