অশনি সংকেত! নাক ডাকা কি কেবলই গভীর ঘুম না কি প্রাণঘাতী ‘স্লিপ অ্যাপনিয়া’? চিনে নিন লক্ষণগুলি

বর্তমান কর্মব্যস্ত জীবনযাত্রায় আমরা অনেক সময় স্বাস্থ্যের ছোটখাটো সমস্যাকে অবহেলা করি, যার মধ্যে অন্যতম হলো ঘুমের সমস্যা। কিন্তু আপনি কি জানেন, ঘুমের মধ্যে বারবার শ্বাস-প্রশ্বাস বন্ধ হয়ে যাওয়া একটি গুরুতর রোগ হতে পারে? চিকিৎসা বিজ্ঞানের ভাষায় একে বলা হয় ‘স্লিপ অ্যাপনিয়া’ (Sleep Apnea)। মূলত দুই প্রকারের স্লিপ অ্যাপনিয়া দেখা যায়— অবস্ট্রাকটিভ স্লিপ অ্যাপনিয়া (OSA) এবং সেন্ট্রাল স্লিপ অ্যাপনিয়া। এর মধ্যে ওএসএ (OSA) সবথেকে বেশি প্রচলিত, যা ঘটে যখন গলার পেশি শিথিল হয়ে শ্বাসনালী বন্ধ করে দেয়। এই রোগকে চিহ্নিত করতে নীচের লক্ষণগুলি মিলিয়ে নিন:

জোরে নাক ডাকা: নাক ডাকা মানেই গভীর ঘুম নয়। শ্বাসনালী সরু হয়ে যাওয়ার ফলে বাতাসে বাধা সৃষ্টি হলে জোরে শব্দ হয়। আপনার নাক ডাকার চোটে যদি সঙ্গীর ঘুম ভেঙে যায়, তবে এটি স্লিপ অ্যাপনিয়ার প্রাথমিক লক্ষণ হতে পারে।

হঠাৎ দমবন্ধ হয়ে ঘুম ভাঙা: ঘুমের মধ্যে কয়েক সেকেন্ডের জন্য শ্বাস পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গেলে শরীরে অক্সিজেনের অভাব ঘটে। তখন মস্তিষ্ক আপনাকে জাগিয়ে তোলে। ফলে আপনি ধড়মড় করে বা হাঁপাতে হাঁপাতে জেগে উঠতে পারেন।

সকালবেলা মাথাব্যথা ও ক্লান্তি: রাতে ৮ ঘণ্টা শুয়েও যদি সকালে সতেজ না লাগে, তবে বুঝতে হবে ঘুমের মান ভালো নয়। রক্তে অক্সিজেনের মাত্রা কমে যাওয়ায় সকালে দুই পাশে তীব্র মাথাব্যথা হতে পারে। সারাদিন কাজে বা গাড়ি চালানোর সময় তন্দ্রাচ্ছন্ন ভাব থাকাও এই রোগের অন্যতম উপসর্গ।

অস্থির ঘুম ও ঘন ঘন প্রস্রাব: রাতে বারবার বিছানায় এপাশ-ওপাশ করা বা কোনো কারণ ছাড়াই ঘুম ভেঙে যাওয়া স্লিপ অ্যাপনিয়ার সংকেত। এমনকি রাতে বারবার প্রস্রাবের বেগ পাওয়াও এর সাথে যুক্ত থাকতে পারে।

কেন চিকিৎসা জরুরি?
স্লিপ অ্যাপনিয়াকে কেবল ‘ঘুমের সমস্যা’ ভেবে এড়িয়ে যাওয়া মারাত্মক ভুল। সঠিক সময়ে চিকিৎসা না করালে এটি শরীরে অক্সিজেনের ভারসাম্য নষ্ট করে উচ্চ রক্তচাপ, টাইপ-২ ডায়াবেটিস এবং স্ট্রোকের মতো প্রাণঘাতী রোগের ঝুঁকি বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়। সুস্থ থাকতে ও হৃদপিণ্ডের ওপর চাপ কমাতে বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া একান্ত প্রয়োজন।