হিথরো বিমানবন্দরে উসমানের পোস্টার ঘিরে বর্ণবিদ্বেষের ঝড়, ট্রোলারদের বুকে টেনে নিয়ে জবাব দিলেন এই ব্রিটিশ মুসলিম

লন্ডনের হিথরো বিমানবন্দরে পা রাখলেই চোখে পড়ে হাসিমুখের এক যুবকের পোস্টার। হাতে খেজুরের ঝুড়ি, পরনে ঐতিহ্যবাহী পোশাক। তিনি সৈয়দ উসমান শাহ, লন্ডনের বাজারে ‘দ্য ডেট সুলতান’ নামে পরিচিত এক সফল ব্যবসায়ী। ব্রিটেনের বহুসাংস্কৃতিক পরিচয় তুলে ধরতে হিথরো কর্তৃপক্ষ যে ৩৮ জন সফল লন্ডনবাসীকে বেছে নিয়েছিল, উসমান ছিলেন তাঁদেরই একজন। নিজের পোস্টার দেখে গর্বে বুক ভরে উঠেছিল তাঁর বাবা-মায়ের। কিন্তু সেই গর্বের মুহূর্ত বিষাদে পরিণত হতে সময় লাগেনি। রাতারাতি সোশ্যাল মিডিয়ায় উসমানের সেই ছবি নিয়ে শুরু হয় বর্ণবিদ্বেষী ও ইসলামোফোবিক আক্রমণ।

উসমানের ঐতিহ্যবাহী পোশাক দেখে উগ্রপন্থীরা মন্তব্য করতে শুরু করে— “লন্ডন কি তবে লন্ডনিস্তান হয়ে যাচ্ছে?” কেউ আবার লেখেন, “তৃতীয় বিশ্বের দেশে আপনাকে স্বাগতম।” হাজার হাজার কুৎসিত মন্তব্যের বন্যায় ভেঙে পড়েছিলেন উসমান। নিজের রান্নাঘরে দাঁড়িয়ে হাউহাউ করে কেঁদে ফেলেছিলেন তিনি। আন্তর্জাতিক পরিসংখ্যান বলছে, ব্রিটেনে মুসলিমদের বিরুদ্ধে বিদ্বেষমূলক অপরাধ গত এক বছরে ১৯% বৃদ্ধি পেয়েছে। উসমানের সাথে থাকা এক মুসলিম নারী অ্যাথলিট এতটাই আতঙ্কিত হয়ে পড়েন যে তিনি নিজের পোস্টার সরিয়ে নেওয়ার অনুরোধ জানান। কিন্তু উসমান মাথা নত করতে রাজি হননি।

অন্ধকারের বিরুদ্ধে আলোর লড়াই লড়লেন উসমান। ঘৃণা ছড়ানো ট্রোলারদের উদ্দেশ্যে তিনি এক অভাবনীয় বার্তা দিলেন। তিনি বললেন, “আমি তোমাদের ঘৃণা করি না, আমি তোমাদের ক্ষমা করে দিয়েছি। আমার দোকানে এসো, আমি তোমাদের বিনামূল্যে খেজুর খাওয়াব।” এই অসামান্য উদারতা কাজ দিল জাদুর মতো। অনেক সমালোচকই পরে ফুল নিয়ে এসে ক্ষমা চেয়ে গিয়েছেন উসমানের কাছে। উসমান প্রমাণ করে দিলেন যে, ঘৃণা দিয়ে নয়, বরং মূল্যবোধ দিয়েই জয় করা যায় পৃথিবী। আজ শত অপমানের পরেও তিনি সগর্বে বলেন, “আমি পাকিস্তানি বংশোদ্ভূত এক ব্রিটিশ মুসলিম হিসেবে গর্বিত, কারণ এই দেশই আমাকে সব দিয়েছে।”