যুদ্ধকালীন তৎপরতায় মোদী সরকার! হরমুজ প্রণালীতে উত্তেজনার জেরে রান্নার গ্যাসের আকাল রুখতে নয়া রণকৌশল

পশ্চিম এশিয়ায় ঘনীভূত হওয়া যুদ্ধ মেঘের ছায়া এবার সরাসরি ভারতের রান্নাঘরে। ইরান ও আমেরিকার সংঘাতের জেরে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালীতে অচলাবস্থা তৈরি হয়েছে, যার প্রভাব পড়তে শুরু করেছে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সরবরাহে। এই পরিস্থিতিতে দেশের অভ্যন্তরে রান্নার গ্যাসের (LPG) সঙ্কট এবং কালোবাজারি রুখতে কোমর বেঁধে নামল নরেন্দ্র মোদী সরকার। বিদেশ মন্ত্রক ও পেট্রোলিয়াম মন্ত্রকের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, রান্নার গ্যাসের যোগান স্বাভাবিক রাখতে এবার শহরাঞ্চলে পাইপলাইনের মাধ্যমে গ্যাস (PNG) সরবরাহ বাড়ানোর ওপর বিশেষ জোর দেওয়া হচ্ছে।
কেন্দ্রীয় সরকার ইতিমধ্যেই সিটি গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন (CGD) সংস্থাগুলিকে নির্দেশ দিয়েছে যাতে দ্রুত পাইপ গ্যাসের পরিধি বাড়ানো হয়। পাশাপাশি, রাজ্য সরকারগুলিকেও সতর্ক করা হয়েছে যাতে এলপিজি সিলিন্ডারের বেআইনি মজুতদারি বা ব্ল্যাক-মার্কেটিং না হয়। অত্যাবশ্যকীয় পণ্য আইন প্রয়োগ করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখার পরিকল্পনা নিয়েছে কেন্দ্র। সরকারি তথ্য বলছে, দেশে এলপিজি উৎপাদন ৩৬ শতাংশ বাড়লেও চাহিদার হার তার থেকেও বেশি। বর্তমানে অনলাইন বুকিংয়ের হার ৯০ শতাংশে পৌঁছে যাওয়ায় সরবরাহ ব্যবস্থার ওপর নজরদারি আরও কড়া করা হয়েছে।
তবে উত্তেজনার মাঝেও কিছুটা স্বস্তির খবর দিয়েছে কেন্দ্র। পেট্রোপণ্যবাহী দুটি বিশাল জাহাজ ‘শিবালিক’ ও ‘নন্দাদেবী’ বর্তমানে ভারতের পথে রয়েছে, যা দ্রুত পৌঁছলে মজুত ভাণ্ডার আরও শক্তিশালী হবে। সরকার স্পষ্ট জানিয়েছে, দেশে বর্তমানে অপরিশোধিত তেলের পর্যাপ্ত মজুত রয়েছে এবং গৃহস্থালি, হাসপাতাল ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মতো জরুরি ক্ষেত্রে সরবরাহ স্বাভাবিক রাখা হবে। তবে শিল্প ও বাণিজ্যিক ক্ষেত্রে গ্যাসের ব্যবহারে কিছুটা নিয়ন্ত্রণ আরোপ করা হতে পারে। বড় শহরের হোটেল ও রেস্তরাঁগুলিকে এলপিজি-র বদলে পিএনজি ব্যবহারে উৎসাহিত করা হচ্ছে। কেন্দ্রের বার্তা পরিষ্কার—সঙ্কট মোকাবিলায় পরিকাঠামো তৈরি, তাই আমজনতার আতঙ্কের কোনো কারণ নেই।