একচেটিয়া মুসলিম ভোটব্যাঙ্ক কি এবারও মমতার পকেটে? প্রার্থী তালিকায় সংখ্যালঘুর দাপটে চিন্তায় বিরোধীরা

২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনের রণক্ষেত্রে দাঁড়িয়ে পশ্চিমবঙ্গ রাজনীতির সবথেকে বড় ফ্যাক্টর ‘সংখ্যালঘু ভোট’ নিয়ে নতুন করে চর্চা শুরু হয়েছে। মঙ্গলবার তৃণমূল কংগ্রেসের প্রার্থী তালিকা প্রকাশিত হতেই দেখা গেল, মুসলিম ভোটব্যাঙ্কে নিজেদের একচেটিয়া আধিপত্য বজায় রাখতে এবার আরও বড় বাজি ধরেছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। গত ২০২১ সালের নির্বাচনে তৃণমূলের সংখ্যালঘু প্রার্থীর সংখ্যা ছিল ৩৫, যা এবার একলাফে বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৪৭-এ। অর্থাৎ গতবারের তুলনায় সংখ্যালঘু প্রার্থী বেড়েছে প্রায় ৩৪ শতাংশ। রাজ্যের ২৯৪টি আসনের মধ্যে অন্তত ১২৫টি আসনে মুসলিম ভোটাররা নির্ণায়ক ভূমিকা পালন করেন, যার মধ্যে ৭০টি আসনে প্রার্থীর ভাগ্য নির্ধারণ সম্পূর্ণ তাঁদের হাতে।
অন্যদিকে, সোমবার বিজেপির প্রকাশিত প্রথম দফার প্রার্থী তালিকায় কোনো মুসলিম মুখ না থাকা নিয়ে শোরগোল পড়ে গিয়েছে। এ প্রসঙ্গে বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য সাফ জানিয়েছেন, “এটা অস্বীকার করার জায়গা নেই যে আমরা মুসলমান ভোট কম পাই। আমাদের দলে মুসলিম কর্মী থাকলেও বিশাল সংখ্যায় নেই, তাই যেখানে আমাদের সমর্থন বেশি সেখানেই প্রার্থী দিয়েছি।” বিজেপির এই কৌশলের বিপরীতে তৃণমূল কিন্তু কেবল সংখ্যালঘু নয়, মহিলা এবং তফশিলি জাতি-উপজাতি (SC-ST) কার্ডও সযত্নে খেলেছে। এবার তৃণমূলের মহিলা প্রার্থীর সংখ্যা ৫২, যা গতবারের চেয়ে ৪ শতাংশ বেশি। তুলনায় বিজেপি ও বামেদের তালিকায় মহিলা মুখের সংখ্যা যথাক্রমে ১১ ও ২৮।
তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় জানিয়েছেন, দল এবার সংরক্ষণের ঊর্ধ্বে গিয়ে প্রার্থী চয়ন করেছে। যেখানে তফশিলি জাতি ও উপজাতির জন্য ৮৪টি আসন সংরক্ষিত, সেখানে তৃণমূল ৯৫ জন SC-ST প্রতিনিধিকে প্রার্থী করেছে। এর মধ্যে ৭৮ জন SC এবং ১৭ জন ST প্রার্থী রয়েছেন। রাজনৈতিক মহলের মতে, প্রতিষ্ঠান বিরোধী হাওয়া রুখতে একদিকে যেমন নতুন মুখ আনা হয়েছে, তেমনই ভোটব্যাঙ্কের অংক মেলাতে প্রান্তিক মানুষের ওপর ভরসা রেখেছেন মমতা-অভিষেক জুটি। এখন দেখার, ৪ মে ভোটের ফলাফলে এই সামাজিক রসায়ন ঘাসফুল শিবিরকে কতটা মাইলেজ দেয়।