ভোটের মুখে বীরভূমে বিস্ফোরক মহাপ্রলয়! উদ্ধার ১০ হাজার জিলেটিন স্টিক ও ডিটোনেটর, নেপথ্যে বড় কোনো ছক?

রাজ্যে বিধানসভা নির্বাচনের রণভেরি বাজতেই তপ্ত হয়ে উঠেছে বীরভূমের মাটি। একদিকে যখন তৃণমূল, বিজেপি এবং সিপিএম—তিন পক্ষই তাদের প্রার্থী তালিকা ঘোষণা করে নির্বাচনী লড়াইয়ের ঘুঁটি সাজাতে ব্যস্ত, ঠিক সেই আবহেই বীরভূমের নলহাটি থেকে উদ্ধার হলো বিপুল পরিমাণ ঘাতক বিস্ফোরক। পুলিশ সূত্রে খবর, মঙ্গলবার রাতে একটি ট্রাক্টর বোঝাই করে প্রায় ১০ হাজার জিলেটিন স্টিক এবং ৩৬০টি ডিটোনেটর নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল। স্থানীয় বাসিন্দাদের সন্দেহ হওয়ায় তাঁরা ট্রাক্টরটি আটকে পুলিশে খবর দেন। পুলিশ আসার আগেই অন্ধকারের সুযোগ নিয়ে চম্পট দেয় চালক। ভোটের মুখে এই বিপুল পরিমাণ বিস্ফোরক কার জন্য এবং কোথায় নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল, তা নিয়ে রীতিমতো আতঙ্ক ছড়িয়েছে এলাকায়।
প্রার্থী তালিকা ঘোষণা ঘিরে ইতিমধ্যেই রাজ্য রাজনীতি উত্তাল। গত সোমবার বিজেপি এবং মঙ্গলবার তৃণমূল তাদের প্রার্থী তালিকা প্রকাশ করেছে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তাঁর ২৯১ জন প্রার্থীর নাম ঘোষণা করে জয়ের লক্ষ্যমাত্রা বেঁধে দিয়েছেন। তবে প্রার্থী তালিকা ঘিরেই রাজ্যের বিভিন্ন জেলায় দেখা দিয়েছে ক্ষোভ। কোথাও টায়ার জ্বালিয়ে বিক্ষোভ, আবার কোথাও দলীয় পদ থেকে ইস্তফার হিড়িক লক্ষ্য করা গেছে। এরই মাঝে বীরভূমে বারুদ উদ্ধার নির্বাচনী নিরাপত্তাকে বড়সড় চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলে দিল।
বিস্ফোরক উদ্ধারের এই আবহে নির্বাচন কমিশন ও বিজেপির বিরুদ্ধে তোপ দেগেছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। কালীঘাটের বাসভবন থেকে প্রার্থী তালিকা ঘোষণার সময় তিনি অভিযোগ করেন, ভোটের আগে বেছে বেছে দক্ষ বাঙালি ও অ-বাঙালি পুলিশ আধিকারিকদের কেন সরানো হলো? মুখ্যমন্ত্রীর দাবি, স্বরাষ্ট্রসচিব থেকে শুরু করে ডিজি এবং কলকাতার পুলিশ কমিশনারকে সরিয়ে দেওয়ার নেপথ্যে গভীর ষড়যন্ত্র রয়েছে। মমতা প্রশ্ন তোলেন, “ঈদের আগে কেন এদের সরানো হলো? যাতে টাকা বিতরণ এবং অস্ত্র আনা সহজ হয়?” তিনি আরও আশঙ্কা প্রকাশ করেন যে, অভিজ্ঞ অফিসারদের সরিয়ে দিয়ে রাজ্যে দাঙ্গা বা বিভেদ লাগানোর কোনো পরিকল্পনা থাকতে পারে। পাল্টাপাল্টি হিসেবে বিজেপিও মুখ্যমন্ত্রীর এই মন্তব্যকে কটাক্ষ করতে ছাড়েনি। সব মিলিয়ে বারুদ উদ্ধার এবং পুলিশি রদবদল নিয়ে ভোটের আগে বাংলার রাজনৈতিক পারদ এখন তুঙ্গে।