মাস্টারপ্ল্যানার লারিজানির বিদায়! মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের আগুন নেভানোর শেষ আশাটুকুও কি শেষ?

পশ্চিম এশিয়ার রণক্ষেত্রে এক চরম অনিশ্চয়তার মেঘ। ইরানের পোড়খাওয়া রাজনীতিক ও অভিজ্ঞ কূটনীতিক আলি লারিজানির মৃত্যুতে এক লহমায় বদলে গেল ইজরায়েল-ইরান যুদ্ধের সমীকরণ। ইজরায়েলি হানায় তাঁর এই আকস্মিক বিদায়ে তেহরানের ক্ষমতার রাশ এখন কার্যত কট্টরপন্থীদের হাতে। কূটনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, লারিজানির মতো এক জন বাস্তববাদী ও দূরদর্শী নেতার অনুপস্থিতি যুদ্ধের আগুন নেভানোর শেষ রাজনৈতিক আশাটুকুও হয়তো কেড়ে নিল।

বিপজ্জনক শূন্যতা ও কট্টরপন্থীদের উত্থান:
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি সর্বোচ্চ নেতা আয়াতোল্লাহ আলি খামেনেই-এর মৃত্যুর পর লারিজানিই ছিলেন ইরানের যুদ্ধকালীন কৌশলের প্রধান মুখ। তিনি একদিকে যেমন রেভল্যুশনারি গার্ডসের আস্থাভাজন ছিলেন, তেমনই হাসান রুহানির মতো মধ্যপন্থীদের সঙ্গেও তাঁর সখ্য ছিল। বিশেষজ্ঞদের আশঙ্কা, তাঁর প্রস্থানে মহম্মদ-বাকের কলিবফের মতো কট্টরপন্থীদের হাত আরও শক্ত হবে, যা ইরানকে আরও ‘দমনমূলক’ এবং ‘আগ্রাসী’ নীতির দিকে ঠেলে দিতে পারে।

আন্তর্জাতিক কূটনীতিতে প্রভাব:
আন্তর্জাতিক গবেষক এলি গেরানমায়েহ-এর মতে, ইজরায়েল সম্ভবত বেছে বেছে তাঁদেরই নিশানা করছে, যাঁরা এই সংকটের রাজনৈতিক সমাধান বের করতে পারতেন। লারিজানি না থাকায় বিদেশমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি বা জাভাদ জারিফের মতো অভিজ্ঞ কূটনীতিকরা এখন তেহরানের অন্দরমহলে আরও কোণঠাসা হয়ে পড়বেন। তেলের সরবরাহ ব্যাহত হওয়ায় বিশ্ববাজারে দাম আকাশছোঁয়া, যা মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কপালে চিন্তার ভাঁজ আরও স্পষ্ট করেছে।