“আমি আগে থেকেই জানতাম টিকিট পাব না!” টিকিট হারিয়ে মমতা-অভিষেককে ইঙ্গিতপূর্ণ বার্তা মনোরঞ্জন ব্যাপারীর

২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনে বাংলা জয়ের হ্যাটট্রিকের পর এবার ‘পরিবর্তনের’ হাওয়া রুখতে মরিয়া তৃণমূল কংগ্রেস। প্রাতিষ্ঠানিক বিরোধিতা (Anti-incumbency) কাটাতে এবং স্বচ্ছ ভাবমূর্তি তুলে ধরতে ২৯১টি আসনের মধ্যে ১৪১টি আসনেই ‘নতুন মুখ’ নিয়ে এল ঘাসফুল শিবির। এই বড়সড় রদবদলের কোপে পড়ে টিকিট হারালেন হুগলির একাধিক প্রভাবশালী বিদায়ী বিধায়ক। তাঁদের মধ্যে সবচেয়ে চর্চিত নাম— বলাগড়ের বিদায়ী বিধায়ক তথা বিশিষ্ট সাহিত্যিক মনোরঞ্জন ব্যাপারী।

বলাগড়ে রঞ্জন ধাড়া, ক্ষুব্ধ মনোরঞ্জন:
গত কয়েক মাস ধরেই বলাগড়ের রাজনীতিতে গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব ছিল তুঙ্গে। সম্প্রতি অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ও বলাগড়ের সাংগঠনিক কাজ নিয়ে উষ্মা প্রকাশ করেছিলেন। এবার দলীয় প্রার্থী তালিকায় মনোরঞ্জন ব্যাপারীর জায়গায় টিকিট দেওয়া হয়েছে রঞ্জন ধাড়াকে। নাম বাদ পড়তেই সামাজিক মাধ্যমে নিজের দীর্ঘদিনের জমে থাকা ক্ষোভ উগড়ে দিয়েছেন মনোরঞ্জন। তিনি লেখেন, “তৃণমূল মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের রক্ত-ঘামে গড়া দল, তিনি কাকে টিকিট দেবেন সেটা তাঁর ব্যক্তিগত বিষয়। তবে আমি আগে থেকেই আন্দাজ করেছিলাম যে টিকিট পাব না।”

মাফিয়া ও চোরদের বিরুদ্ধে তোপ:
টিকিট না পাওয়ার যন্ত্রণার মাঝেই মনোরঞ্জন ব্যাপারী তাঁর বিধায়ক পদের কাজের খতিয়ান তুলে ধরে বলেন, “আমি আমার সীমিত শক্তি দিয়ে বালি মাফিয়া, গরু পাচারকারী, সবুজদ্বীপের গাছ চোর এবং রেশনের চাল চোরদের বিরুদ্ধে সাধ্যমতো প্রতিরোধ গড়ে তুলেছিলাম।” ২০২১-এর নির্বাচনের শপথ মনে করিয়ে দিয়ে তিনি আবেগপ্রবণ হয়ে লেখেন, “আমি বলেছিলাম দুর্নীতি করলে আপনারা থুতু দেবেন। ধন্যবাদ যে কেউ আমার দিকে থুতু ছোড়েননি।”

হুগলির অন্য হেভিওয়েটরা যারা বাদ পড়লেন:
মনোরঞ্জন ব্যাপারী ছাড়াও হুগলি জেলায় তৃণমূলের প্রার্থী তালিকা থেকে বাদ পড়েছেন একাধিক পরিচিত মুখ:

অসিত মজুমদার (চুঁচুড়া): টিকিট না পেয়ে ইতিমধ্যেই প্রকাশ্যে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন তিনি।

রত্না দে নাগ (পাণ্ডুয়া): তাঁর দীর্ঘদিনের সংসদীয় অভিজ্ঞতার পরও এবার ব্রাত্য তিনি।

তপন দাশগুপ্ত (সপ্তগ্রাম): দলের একসময়ের দাপুটে নেতাকেও এবার সরিয়ে দেওয়া হয়েছে।

কাঞ্চন মল্লিক (উত্তরপাড়া): তাঁর জায়গায় টিকিট পেয়েছেন কল্যাণ-পুত্র শীর্ষণ্য বন্দ্যোপাধ্যায়।

তৃণমূলের এই ‘শুদ্ধিকরণ’ অভিযান কি সাধারণ মানুষের মন জয় করতে পারবে, না কি টিকিট না পাওয়া নেতাদের ক্ষোভ দলের অন্দরেই নতুন সমস্যার সৃষ্টি করবে— এখন সেটাই বড় প্রশ্ন।