SPORTS: রান আউট ঘিরে মাঠেই ঝগড়া, সলমন আঘার আউট ঘিরে উত্তাল ক্রিকেট বিশ্ব!

বাইশ গজে ফের একবার জয় বনাম সৌজন্যের লড়াই। শুক্রবার বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের মধ্যকার দ্বিতীয় ওয়ানডে ম্যাচে সলমন আলি আঘার রান-আউট ঘিরে যে নাটকীয় পরিস্থিতির সৃষ্টি হলো, তা যেন ‘মানকাডিং’ বিতর্কের স্মৃতি উসকে দিল। মেহেদি হাসান মিরাজের উপস্থিত বুদ্ধিতে সলমন আউট হলেও, মাঠের ভেতরে ও বাইরে নৈতিকতার প্রশ্নে বিদ্ধ হচ্ছে বাংলাদেশ দল।

ঠিক কী ঘটেছিল মিরপুরের মাঠে?

ঘটনাটি ঘটে পাকিস্তানের ইনিংসের এক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সন্ধিক্ষণে। ক্রিজে থিতু হয়ে গিয়েছিলেন সলমন আঘা। একটি বল খেলার পর সহজাত অভ্যাসে ক্রিজ থেকে সামান্য বেরিয়ে এসেছিলেন তিনি। কিন্তু বলটি সরাসরি ফিল্ডারের হাতে যায়। সেই মুহূর্তেই বাংলাদেশের অলরাউন্ডার মেহেদি হাসান মিরাজ চিতার মতো ক্ষিপ্রতায় বল সংগ্রহ করে উইকেট ভেঙে দেন। আম্পায়ারের সিদ্ধান্তে সলমনকে আউট ঘোষণা করা হলেও মাঠেই ফেটে পড়েন পাকিস্তানি ব্যাটার।

বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে ‘স্পিরিট অফ ক্রিকেট’

ক্রিকেট বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, সলমন আঘা রান নেওয়ার উদ্দেশ্যে দৌড় শুরু করেননি। অসাবধানতাবশত তাঁর পা ক্রিজের বাইরে ছিল মাত্র। ক্রিকেটের কঠোর নিয়ম অনুযায়ী এটি আউট হলেও, খেলার ‘স্পিরিট’ বা সৌজন্যের খাতিরে সাধারণত ফিল্ডিং দল এই ধরণের আবেদন তুলে নেয়। কিন্তু জয়ের জন্য মরিয়া বাংলাদেশ দল আবেদন বজায় রাখলে সলমনকে প্যাভিলিয়নের পথ ধরতে হয়।

গ্যালারিতে ‘দুয়ো’, সোশ্যাল মিডিয়ায় ক্ষোভ

সলমনের মতো একজন সেট ব্যাটার এভাবে সাজঘরে ফেরায় পাকিস্তানের রান তোলার গতি থমকে যায়। বাংলাদেশ দল উইকেট পেয়ে উল্লাস করলেও, মিরপুরের গ্যালারিতে উপস্থিত দর্শকদের একাংশ কিন্তু আয়োজক দেশকেই ‘দুয়ো’ দিতে ছাড়েননি। পাকিস্তানের ড্রেসিংরুম থেকে শুরু করে সোশ্যাল মিডিয়া— সর্বত্রই বাংলাদেশের এই ‘খেলোয়াড়োচিত মানসিকতার অভাব’ নিয়ে সমালোচনার ঝড় উঠেছে।

বিশেষজ্ঞদের দ্বিমত

ঘটনাটি নিয়ে দুই ভাগে বিভক্ত ক্রিকেট বিশ্ব:

  • এক পক্ষের মতে: মিরাজ স্রেফ নিয়মের সুযোগ নিয়েছেন, এখানে অন্যায়ের কিছু নেই। আউট তো আউটই!

  • অন্য পক্ষের মতে: এই ধরণের উইকেট শিকার ক্রিকেটের নান্দনিকতা এবং আভিজাত্য নষ্ট করে। জয় কি ঐতিহ্যের চেয়েও বড়?

ক্রিকেট কি কেবলই জেতা-হারার পরিসংখ্যান, নাকি সৌজন্যের ঐতিহ্য রক্ষা করাও সমান জরুরি— মিরপুরের এই ঘটনা সেই পুরনো প্রশ্নটিই আবারও বড় করে তুলে ধরল।