মাঠে বান্ধবীর সঙ্গে অন্তরঙ্গতা না কি তেরঙার অসম্মান? পুণের আইনজীবীর অভিযোগে হার্দিকের বিরুদ্ধে FIR!

টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ জয়ের রেশ কাটতে না কাটতেই চরম অস্বস্তিতে ভারতীয় ক্রিকেট দলের তারকা অলরাউন্ডার হার্দিক পান্ডিয়া। মাঠের পারফরম্যান্স দিয়ে কোটি কোটি ভারতীয়র মন জয় করলেও, উদযাপনের সময় জাতীয় পতাকার অবমাননার অভিযোগে তাঁর বিরুদ্ধে এফআইআর (FIR) দায়ের করেছেন পুণের এক আইনজীবী। পুণের শিবাজিনগর থানায় ওয়াজিদ খান নামে ওই আইনজীবী হার্দিকের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। তাঁর দাবি, জয়ের পর জাতীয় পতাকাকে যেভাবে ব্যবহার করেছেন হার্দিক, তা দেশের সার্বভৌমত্ব ও তেরঙার মর্যাদাকে ক্ষুণ্ণ করেছে।
অশালীনতা না কি অসতর্কতা?
বিশ্বকাপ জয়ের পরেই হার্দিকের একটি ভিডিও সমাজমাধ্যমে ভাইরাল হয়। সেখানে দেখা যায়, পুরস্কার বিতরণের পোডিয়ামে বসে হার্দিক ও তাঁর বর্তমান বান্ধবী মাহিকা শর্মা। ভিডিওতে দুজনকে পোডিয়ামে শুয়ে পড়তে দেখা যায় এবং হার্দিককে মাহিকার গায়ে হাত দিয়ে জড়িয়ে ধরে থাকতেও দেখা যায়। পাশে হার্দিকের পুত্র অগস্ত্যও ছিল। এই দৃশ্য দেখে নেটিজেনদের একাংশ ক্ষোভে ফেটে পড়েছেন। তাঁদের মতে, জাতীয় দলের জার্সি গায়ে এবং কাঁধে জাতীয় পতাকা থাকা অবস্থায় হার্দিকের এই আচরণ শালীনতার মাত্রা ছাড়িয়ে গিয়েছে।
কী বলছেন আইনজীবী?
সংবাদসংস্থা এএনআই-কে আইনজীবী ওয়াজিদ খান বলেন, “ফাইনালে জয়ের পর হার্দিক তাঁর বান্ধবীর সঙ্গে নাচছিলেন এবং আলিঙ্গন করছিলেন। সেই সময় তাঁর কাঁধে জাতীয় পতাকা বাঁধা ছিল। এমনকি পতাকা থাকা অবস্থাতেই তিনি শুয়ে পড়েন। ১৯৭১ সালের জাতীয় পতাকা আইনের ২ নং ধারা অনুযায়ী, এটি জাতীয় পতাকার প্রতি চরম অবমাননা।” প্রথমে পুলিশ অভিযোগ নিতে অস্বীকার করলেও শেষ পর্যন্ত আইনি লড়াই চালিয়ে এফআইআর দায়ের করেছেন তিনি।
সম্পর্ক ও বিতর্ক:
নাতাশা স্ট্যানকোভিচের সঙ্গে বিচ্ছেদের পর মাহিকা শর্মার সঙ্গে হার্দিকের সম্পর্ক এখন আর গোপন নেই। বিশ্বকাপ জয়ের পর মাহিকাকেই স্ত্রীর মর্যাদা দিয়েছেন তিনি। কিন্তু আনন্দের আতিশয্যে জাতীয় পতাকাকে ‘পোশাকের’ মতো ব্যবহার করে যেভাবে তিনি রোমান্সে মজেছিলেন, তা এখন তাঁকে আইনি কাঠগড়ায় দাঁড় করিয়ে দিল। এখন দেখার, পুলিশ এই বিষয়ে হার্দিকের বিরুদ্ধে ঠিক কী পদক্ষেপ গ্রহণ করে।