“রাজ্যপালকে বলেছি হাতজোড় করে, সংবিধান বাঁচান!” নয়া রাজ্যপালের সঙ্গে সাক্ষাতে বিস্ফোরক শুভেন্দু

বাংলার নতুন রাজ্যপাল হিসেবে আর এন রবির শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকতে না পারলেও, চব্বিশ ঘণ্টা কাটতে না কাটতেই রাজভবনে (লোকভবন) গিয়ে তাঁর সঙ্গে সাক্ষাৎ করলেন বিধানসভার বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। এদিন নয়া রাজ্যপালকে কমলা রঙের গোলাপ ও পবিত্র ‘গীতা’ উপহার দিয়ে স্বাগত জানান তিনি। প্রায় ৩০ মিনিটের এই একান্ত বৈঠকে রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি থেকে শুরু করে বিরোধী বিধায়কদের নিরাপত্তা—একাধিক জ্বলন্ত ইস্যু তুলে ধরেন শুভেন্দু। রাজভবন থেকে বেরিয়ে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তিনি বলেন, “আমি রাজ্যপালকে হাতজোড় করে বলেছি, দয়া করে বাংলার সংবিধান বাঁচান।”

রাজভবনে অভিযোগের ঝুলি:
শুভেন্দুর দাবি, গত ৫ বছরে বিরোধী দলনেতাকে সাড়ে এগারো মাস বিধানসভার বাইরে রাখা হয়েছে। পাঁচবার সাসপেন্ড করার প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, “এমন নজির অন্য কোথাও নেই।” খগেন মুর্মুর ওপর হামলা এবং কেন্দ্রীয় মন্ত্রীদের ওপর আক্রমণের কথা উল্লেখ করে তিনি অভিযোগ করেন, এ রাজ্যে বিরোধীদের সাংসদ বা বিধায়করা কেউ নিরাপদ নন। এমনকি আমলাদের অবসর না নেওয়া এবং বিচারব্যবস্থার ওপর আক্রমণের বিষয়টিও তিনি রাজ্যপালকে বিশদভাবে জানিয়েছেন।

অনুপ্রবেশ ও তোষণ রাজনীতি নিয়ে তোপ:
মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে নিশানা করে শুভেন্দু বলেন, “এ রাজ্যে মুখ্যমন্ত্রীর প্রধান লক্ষ্য তোষণ। ৫৫০ কিমি সীমান্তে বেড়া নেই, ফলে হু হু করে বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারী ও রোহিঙ্গারা ঢুকছে। এর ফলে বাংলার জনবিন্যাস বদলে যাচ্ছে। রাজ্যপালকে বলেছি বাংলাকে বাঁচান।” রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুর বাংলা সফর ঘিরে তৈরি হওয়া বিতর্ককেও তিনি ‘ক্লোজ চ্যাপ্টার’ বলতে নারাজ। এই বিষয়ে কড়া পদক্ষেপের আর্জি জানিয়েছেন তিনি।

ডিএ ও ইরান প্রসঙ্গ:
এদিন সরকারি কর্মচারীদের ডিএ আন্দোলনকেও পূর্ণ সমর্থন জানান বিরোধী দলনেতা। তিনি প্রতিশ্রুতি দেন, বিজেপি সরকার এলে সরকারি কর্মচারীদের বেতন বৃদ্ধি হবে। অন্যদিকে, রান্নার গ্যাসের মূল্যবৃদ্ধির প্রতিবাদে তৃণমূলের আন্দোলনকে কটাক্ষ করে শুভেন্দু বলেন, “তৃণমূল ইরান চলে যাক। কেন্দ্রীয় সরকার টিকিট করে দেবে। খামেনেই-র বাড়ির সামনে গিয়ে ধর্ণা দিক।” নয়া রাজ্যপাল তাঁর কথা গুরুত্ব দিয়ে শুনেছেন এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবেন বলে আশাবাদী শুভেন্দু অধিকারী।