গ্যাস নিয়ে দাঙ্গা থামান! উৎপাদন ১০% বাড়িয়ে আমজনতাকে ‘বিগ আপডেট’ দিল মোদী সরকার

পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধের মেঘ ঘনিয়ে আসতেই ভারতে এলপিজি বা রান্নার গ্যাসের জোগান নিয়ে যে আতঙ্ক তৈরি হয়েছিল, মঙ্গলবার তাতে জল ঢালল কেন্দ্র। মুম্বই, বেঙ্গালুরু ও চেন্নাইয়ের মতো মেগাসিটিগুলির রেস্তোরাঁ ও হোটেলগুলিতে বাণিজ্যিক গ্যাসের আকাল দেখা দেওয়ার খবর আসতেই ময়দানে নামল নরেন্দ্র মোদী সরকার। মঙ্গলবার স্পষ্ট জানানো হয়েছে, দেশে বাণিজ্যিক গ্যাস সিলিন্ডারের কোনো সংকট নেই এবং পরিস্থিতি সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে।

কেন্দ্রীয় পেট্রোলিয়াম মন্ত্রক সূত্রের খবর, বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতা ও হরমুজ প্রণালী ঘিরে উত্তেজনার কথা মাথায় রেখেই তেল শোধনাগারগুলিকে এলপিজি উৎপাদন বাড়ানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। সেই অনুযায়ী ইতিমধ্যেই উৎপাদন প্রায় ১০ শতাংশ বাড়ানো হয়েছে। শোধনাগারগুলি এখন ১০০ শতাংশ সক্ষমতা নিয়ে কাজ করছে। সরকারি আধিকারিকদের দাবি, “সাময়িক উদ্বেগ তৈরি হলেও এখন চিন্তার কিছু নেই। ভারত অন্যান্য দেশের তুলনায় অনেক বেশি স্বস্তিদায়ক অবস্থায় রয়েছে।”

উল্লেখ্য, গত শনিবার গৃহস্থের রান্নার গ্যাসের দাম ৬০ টাকা এবং বাণিজ্যিক সিলিন্ডারের দাম ১১৫ টাকা বাড়ানো হয়েছে। সেই সঙ্গে ২৫ দিনের আগে নতুন সিলিন্ডার বুকিংয়েও নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। এই কড়াকড়ির মাঝে সাধারণ মানুষের মনে জোগান নিয়ে প্রশ্ন উঠেছিল। সরকার আশ্বস্ত করে জানিয়েছে, জোগান স্বাভাবিক রাখতে আমেরিকা-সহ একাধিক বিকল্প উৎস থেকে এলপিজি ও অপরিশোধিত তেল আমদানির নিরন্তর চেষ্টা চলছে।

সোশ্যাল মিডিয়ায় গ্যাসের আকাল নিয়ে চলা বিভিন্ন তথ্যের সত্যতা যাচাই করারও আবেদন জানানো হয়েছে সরকারের তরফে। কেন্দ্রের স্পষ্ট বার্তা, প্যানিক বুকিং বা অযথা আতঙ্কিত হয়ে কালোবাজারিকে প্রশ্রয় দেওয়ার প্রয়োজন নেই। সরকার সজাগ রয়েছে এবং গৃহস্থের হেঁশেলে যাতে উনুন না নেভে, তার জন্য সব ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।