রান্নাঘরে হাহাকার! ২৫ দিনের আগে গ্যাস বুকিং নিষিদ্ধ, মাথায় হাত আমজনতার!

পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধের লেলিহান শিখা এবার সরাসরি মধ্যবিত্তের হেঁশেল পুড়িয়ে ছারখার করছে। গ্যাসের আকাশছোঁয়া দামের পর এবার বুকিংয়ের কড়া নিয়মে কার্যত দিশেহারা সাধারণ মানুষ। কেন্দ্রীয় সরকারের নতুন নির্দেশিকা অনুযায়ী, এখন থেকে একটি সিলিন্ডার বুক করার ২৫ দিনের মধ্যে দ্বিতীয় সিলিন্ডার বুক করা যাবে না। আগে এই সময়সীমা ছিল ২১ দিন, যা বাড়িয়ে এখন ২৫ দিন করা হয়েছে। সরকারের এই একতরফা সিদ্ধান্তে সবচেয়ে বেশি বিপদে পড়েছেন যৌথ পরিবারের সদস্যরা।
যাঁদের পরিবারে ৮ থেকে ১০ জন সদস্য, তাঁদের দিনে দু-বেলা রান্না করতে গিয়ে ২০-২২ দিনের মধ্যেই সিলিন্ডার শেষ হয়ে যায়। আগে ২১ দিনের নিয়ম থাকায় কোনোমতে পরিস্থিতি সামাল দেওয়া যাচ্ছিল, কিন্তু এখন ২৫ দিনের বাধ্যবাধকতা আসায় অন্তত ৩-৫ দিন উনুন জ্বলা বন্ধ থাকার উপক্রম হয়েছে। শুধু বড় পরিবার নয়, ছোট পরিবারগুলিও চরম উৎকণ্ঠায়। অনেকে সিলিন্ডার শেষ হওয়ার ৫-৭ দিন আগে সতর্কতামূলক বুকিং করেন, কিন্তু এখন সরবরাহ ব্যবস্থায় ঘাটতি থাকায় বুকিংয়ের ১৫-২০ দিন পর ডেলিভারি পাওয়া যাচ্ছে। ফলে একবার সিলিন্ডার শেষ হলে নতুনটি হাতে পেতে প্রায় এক মাস পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হতে পারে।
কেন্দ্রীয় সরকারের দাবি, যুদ্ধের আবহে ‘প্যানিক বুকিং’ বা আতঙ্কে অতিরিক্ত মজুত কমাতেই এই পদক্ষেপ। যেখানে অনেক গ্রাহক ৫৫ দিন পর গ্যাস নিতেন, তাঁরা এখন ১৫ দিনেই বুকিং করছেন, যা কালোবাজারিকে উস্কানি দিচ্ছে। সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে কেন্দ্র এখন সিএনজি এবং পাইপড ন্যাচারাল গ্যাসকে ১০০ শতাংশ অগ্রাধিকার দিচ্ছে। এছাড়া সার কারখানায় ৭০ শতাংশ এবং চা শিল্পে ৮০ শতাংশ সরবরাহের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
যাঁদের বাড়িতে মাত্র একটি সিলিন্ডার কানেকশন, তাঁদের অবস্থা সবচেয়ে করুণ। ২০ দিনের মাথায় গ্যাস ফুরিয়ে গেলে তাঁদের আরও ৫ দিন অপেক্ষা করতে হবে শুধু বুকিং করার জন্য। এরপর ডেলিভারি পেতে আরও দীর্ঘ সময়। এই ‘গ্যাস-লকডাউন’ পরিস্থিতিতে সাধারণ মানুষের একটাই প্রশ্ন—সরবরাহ ঠিক করার বদলে কেন সাধারণ গ্রাহকদেরই বারবার বলির পাঁঠা হতে হচ্ছে?