দেশজুড়ে গ্যাসের হাহাকার! মধ্যবিত্তের রান্নাঘর বাঁচাতে মোদী সরকারের বড় পদক্ষেপ

ইরান ও ইজরায়েলের মধ্যে সংঘাতের আঁচ এবার সরাসরি ভারতের রান্নাঘরে। হরমুজ প্রণালী বন্ধ হওয়ার আশঙ্কায় দেশে এলপিজি (LPG) সরবরাহে টান পড়েছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে এবং মজুতদারি রুখতে দেশজুড়ে ‘অত্যাবশ্যকীয় পণ্য আইন, ১৯৫৫’ (Essential Commodities Act) কার্যকর করল কেন্দ্র। পেট্রোলিয়াম ও প্রাকৃতিক গ্যাস মন্ত্রকের এই সিদ্ধান্তের ফলে এখন থেকে রান্নার গ্যাসের বণ্টন ও সরবরাহ সম্পূর্ণ সরকারি নিয়ন্ত্রণে থাকবে।
কেন এই জরুরি আইন? ইরান-ইজরায়েল যুদ্ধের জেরে বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের জোগানে টান পড়েছে। ভারতের আমদানিকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের ৩০ শতাংশ আসে হরমুজ প্রণালী দিয়ে, যা বর্তমানে উত্তপ্ত। এর ফলে দেশজুড়ে বাণিজ্যিক সিলিন্ডারের তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। বেঙ্গালুরু, মুম্বই ও কলকাতার হোটেল অ্যাসোসিয়েশনগুলি ইতিমধ্যেই ধর্মঘটের হুঁশিয়ারি দিয়েছে। কালোবাজারি ও কৃত্রিম সংকট রুখতেই ১৯৫৫ সালের এই কড়া আইন প্রয়োগ করল নয়াদিল্লি।
কী কী বদলাবে এখন? এই আইনের আওতায় এলপিজি সরবরাহে একটি অগ্রাধিকার তালিকা তৈরি করেছে কেন্দ্র:
-
গৃহস্থালি: সাধারণ মানুষের রান্নার গ্যাসের (পাইপলাইন ও সিলিন্ডার) সরবরাহে ১০০ শতাংশ অগ্রাধিকার দিতে হবে।
-
বাণিজ্য ও চা শিল্প: বাণিজ্যিক প্রয়োজনে এবং চা বাগানে ৮০ শতাংশ অগ্রাধিকার দেওয়া হবে।
-
সার ও রাসায়নিক: ফার্টিলাইজার প্ল্যান্টের জন্য ৭০ শতাংশ জোগান নিশ্চিত করতে হবে।
সরকারের বিশেষ ক্ষমতা: অত্যাবশ্যকীয় পণ্য আইনের ৩ এবং ৫ নম্বর ধারা ব্যবহার করে সরকার যেকোনো পণ্যের উৎপাদন ও মজুত সীমা নির্ধারণ করতে পারে। যদি কেউ অসাধুভাবে গ্যাস মজুত করে বা চড়া দামে বিক্রি করে, তবে এই আইনের অধীনে কঠোর শাস্তির বিধান রয়েছে। এর আগে করোনা আবহে স্যানিটাইজারের কালোবাজারি রুখতে এই আইন ব্যবহার করা হয়েছিল। আপাতত সাধারণ মানুষের হেঁশেল সচল রাখাই কেন্দ্রের প্রধান লক্ষ্য।