নজরে ৫ লক্ষ নতুন ভোটার! প্রবীণদের ‘হোম ভোটিং’ ও ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে সাজছে ২০২৬-এর নির্বাচন

তিন দিনের পশ্চিমবঙ্গ সফর শেষে মঙ্গলবার এক হাই-ভোল্টেজ সাংবাদিক বৈঠকে ২০২৬ বিধানসভা নির্বাচনের রূপরেখা স্পষ্ট করলেন মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার। রাজ্যে ভোটার সংখ্যা বৃদ্ধি থেকে শুরু করে প্রযুক্তিগত আধুনিকীকরণ—একগুচ্ছ বড় ঘোষণা করলেন তিনি। কমিশনের প্রধান লক্ষ্য যে ‘স্বচ্ছতা’ এবং ‘অহিংসা’, তা এদিন তাঁর বক্তব্যে বারবার ফুটে উঠেছে।
ডিজিটাল প্রযুক্তি ও স্বচ্ছতা: নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় জালিয়াতি রুখতে এবং স্বচ্ছতা বজায় রাখতে রাজ্যের ৮০,৭১৯টি বুথের সবকটিতেই (১০০%) ওয়েবকাস্টিং বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। এ ছাড়াও ভোটারদের পরিষেবা দিতে এবং ভোটের হারের তাৎক্ষণিক তথ্য আপলোড করতে ‘ECINET’ নামে একটি ওয়ান-স্টপ ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম চালুর কথা জানিয়েছেন তিনি। ভিভিপ্যাট স্লিপ গণনা নিয়েও কড়া বার্তা দিয়েছেন তিনি—যদি কোনো কারণে ইভিএম-এর তথ্যে অমিল পাওয়া যায়, তবে ভিভিপ্যাট গণনা বাধ্যতামূলক হবে।
ভোটার তালিকার একনজরে পরিসংখ্যান:
-
মোট ভোটার: ৬ কোটি ৪৪ লক্ষ ৫২ হাজার ৬০৯ জন।
-
পুরুষ ভোটার: ৩ কোটি ২৮ লক্ষ ১০ হাজার ৮৭২ জন।
-
মহিলা ভোটার: ৩ কোটি ১৬ লক্ষ ৪০ হাজার ৫৮৫ জন।
-
তৃতীয় লিঙ্গ: ১,১৫২ জন।
-
নতুন ভোটার (১৮-১৯ বছর): ৫.২৩ লক্ষ।
মহিলা ও বিশেষ সক্ষমদের প্রাধান্য: এবারের নির্বাচনে নারী ক্ষমতায়নের বড় ছবি দেখা যাবে। রাজ্যের ১০,৩৬১টি বুথ সম্পূর্ণভাবে মহিলারা পরিচালনা করবেন। এ ছাড়াও ৭৪টি বুথের দায়িত্বে থাকবেন দিব্যাঙ্গ কর্মীরা। ৮৫ বছরের ঊর্ধ্বের প্রবীণ ভোটার এবং বিশেষ সক্ষম (PwD) ভোটারদের জন্য থাকছে ঐচ্ছিক ‘হোম ভোটিং’ বা বাড়িতে বসে ভোট দেওয়ার সুবিধা।
নিরাপত্তা ও পরিকাঠামো: প্রতিটি বুথে পানীয় জল, শৌচাগার, র্যাম্প এবং শেডের মতো নূন্যতম সুবিধা (AMF) নিশ্চিত করতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তরুণ ভোটারদের ভোটদানে উৎসাহিত করতে ২৯৪ জন বিশেষ অফিসার নিয়োগ করা হয়েছে। কমিশনারের সাফ বার্তা, “কোনো বৈধ ভোটার যেন বাদ না যায় এবং কোনো অবৈধ ভোটার যেন ঢুকতে না পারে।”