১৭-র ত্রিপুরার পুনরাবৃত্তি হবে বাংলায়? পঞ্চায়েত প্রতিনিধিদের পদত্যাগ নিয়ে বড় হুঁশিয়ারি বিরোধী দলনেতার

সপ্তাহের শুরুতেই নিজের নির্বাচনী কেন্দ্র নন্দীগ্রামে গিয়ে রাজ্য রাজনীতিতে নতুন সমীকরণের ইঙ্গিত দিলেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। সোমবার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে তীব্র আক্রমণ শানিয়ে শুভেন্দু দাবি করেন, আগামী এপ্রিল মাসের পর থেকে তৃণমূলের পঞ্চায়েত স্তরের প্রতিনিধিদের মধ্যে গণ-ইস্তফার হিড়িক পড়বে। তাঁর কথায়, “এপ্রিলের পর লাইন দিয়ে তৃণমূলের পঞ্চায়েত সদস্যরা বিডিও অফিসে গিয়ে ইস্তফা দেবেন।”

২০১৭ সালে ত্রিপুরার রাজনৈতিক পালাবদলের প্রসঙ্গ টেনে শুভেন্দু এদিন বলেন, “সেবার ত্রিপুরার মানুষ যেমনটা করেছিলেন, এবার বাংলাতেও তেমনটাই ঘটবে। বিজেপিই সরকার গড়বে। এপ্রিল মাসের পর থেকে পরিস্থিতি একদম পরিষ্কার হয়ে যাবে।” শুভেন্দুর দাবি, ২০২১ সালে নন্দীগ্রাম যে রাজনৈতিক দূরদর্শিতার পরিচয় দিয়েছিল, আজ গোটা বাংলার মানুষ সেই পথে হাঁটতে শুরু করেছে। “গোটা বাংলার মানুষ এখন বলছে নন্দীগ্রাম ঠিক ছিল। এখানকার মানুষ মুখ্যমন্ত্রীকে প্রত্যাখ্যান করে আমায় গ্রহণ করেছে,” বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

এদিন নন্দীগ্রামের মানুষের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে শুভেন্দু বলেন, এখানকার মানুষ অনেক সুযোগ-সুবিধা পায়নি এবং পাওয়ার আশাও করে না। কিন্তু তিনি অন্তত তাঁদের শান্তিতে থাকার নিশ্চয়তা দিয়েছেন। এপ্রিল মাসকে টার্গেট করে বিরোধী দলনেতার এই মন্তব্য অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল। তৃণমূলের পঞ্চায়েত স্তরে ভাঙন এবং সরকার গঠনের বিষয়ে শুভেন্দুর এই সরাসরি হুঁশিয়ারি বঙ্গ রাজনীতির পারদকে এক ধাক্কায় অনেকটা বাড়িয়ে দিল।