উত্তরপ্রদেশের আর্থিক ম্যাজিক! ৩৬ লক্ষ কোটির অর্থনীতি হওয়ার পথে যোগী রাজ্য

ভারতের হৃদপিণ্ড উত্তরপ্রদেশ এখন কেবল জনসংখ্যায় নয়, অর্থনীতির দৌড়েও প্রথম সারিতে। সোমবার বিধানসভার বাজেট অধিবেশনে অর্থমন্ত্রী সুরেশ কুমার খান্না রাজ্যের ইতিহাসে প্রথম ‘অর্থনৈতিক পর্যালোচনা ২০২৫-২৬’ পেশ করেন। এই সমীক্ষায় উঠে এসেছে এক অভাবনীয় পরিবর্তনের চিত্র, যা প্রমাণ করে যে উত্তরপ্রদেশ এখন ১ ট্রিলিয়ন ডলার অর্থনীতির লক্ষ্যমাত্রার দিকে দ্রুত এগিয়ে চলেছে।
জিডিপি ও বাজেটের ঐতিহাসিক লম্ফ: পরিসংখ্যান বলছে, ২০১৬-১৭ সালে রাজ্যের জিডিপি যেখানে ছিল ১৩.৩০ লক্ষ কোটি টাকা, ২০২৪-২৫ সালে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩০.২৫ লক্ষ কোটি টাকায়। লক্ষ্যমাত্রা রাখা হয়েছে যে, ২০২৫-২৬ অর্থবর্ষে এটি ৩৬ লক্ষ কোটি টাকা ছাড়িয়ে যাবে। একইভাবে বাজেটের আকার ৩.৪৭ লক্ষ কোটি থেকে বেড়ে হতে চলেছে ৮.৩৩ লক্ষ কোটি টাকা।
বিনিয়োগের নতুন গন্তব্য ও ‘ট্রিপল এস’ ফর্মুলা: সুরক্ষা, স্থিতিশীলতা এবং গতি (Security, Stability, Speed)—এই তিন মূলমন্ত্রে ভর করে উত্তরপ্রদেশ এখন বিনিয়োগকারীদের স্বর্গরাজ্য। বর্তমানে রাজ্যে ৫০ লক্ষ কোটি টাকারও বেশি বিনিয়োগ প্রস্তাব জমা পড়েছে, যা রাজ্যের শিল্পায়নের ইতিহাসে এক রেকর্ড।
সমীক্ষার মূল নির্যাস: * মাথাপিছু আয়: ২০১৬-১৭ সালে যা ছিল ৫৪,৫৬৪ টাকা, ২০২৪-২৫ সালে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১,০৯,৮৪৪ টাকায়। আগামী বছরে এটি ১.২০ লক্ষ টাকা ছোঁবে বলে অনুমান।
-
জাতীয় অবদান: ভারতের মোট জিডিপিতে উত্তরপ্রদেশের অবদান ৮.৬% থেকে বেড়ে ৯.১% হয়েছে।
-
রাজস্ব ও ঋণ: রাজ্যের নিজস্ব কর রাজস্ব প্রায় আড়াই গুণ বৃদ্ধি পেয়েছে এবং জিএসডিপি-র তুলনায় ঋণের অনুপাত কমে ২৮% এ নেমেছে, যা উন্নত আর্থিক শৃঙ্খলার পরিচয়।
-
খাতভিত্তিক অবদান: পরিষেবা খাত (৪৭%) এবং শিল্প খাত (২৭.২%) এখন কৃষি খাতের (২৫.৮%) চেয়েও এগিয়ে, যা আধুনিক অর্থনীতির লক্ষণ।