‘ভাষা আন্দোলন রোগ নয়, পরিচয়!’ ভাগবতকে তুলোধোনা রাজ ঠাকরের, তুললেন মোদী সরকারের ‘ভয়’ প্রসঙ্গ

রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘের (RSS) শতবর্ষ উদযাপন অনুষ্ঠানে সরসঙ্ঘচালক মোহন ভাগবতের দেওয়া ‘ভাষা আন্দোলন একটি রোগ’—এই বক্তব্যের প্রেক্ষিতে মহারাষ্ট্রের রাজনীতিতে শুরু হয়েছে তুমুল তর্জা। এমএনএস (MNS) প্রধান রাজ ঠাকরে এই বক্তব্যের তীব্র বিরোধিতা করে সরাসরি ভাগবতকে আক্রমণ করেছেন। রাজ ঠাকরের দাবি, ভাগবত পরোক্ষভাবে বিজেপির রাজনৈতিক অ্যাজেন্ডা বাস্তবায়ন করার চেষ্টা করছেন।
মোদী সরকারের ভয় দেখাচ্ছেন! সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ‘X’-এ একটি দীর্ঘ পোস্টে রাজ ঠাকরে লেখেন, “মোহনরাও ভাগবতকে একটা কথা বলতে চাই—অনুষ্ঠানে যারা এসেছিল তারা আপনাকে ভালোবেসে নয়, বরং নরেন্দ্র মোদী সরকারের ভয়ে এসেছিল!” তিনি অভিযোগ করেন যে, বিশিষ্ট ব্যক্তিদের উপস্থিতিকে নিজেদের জনপ্রিয়তা হিসেবে দেখানোর কোনো কারণ নেই, কারণ বর্তমানে দেশে ভয়ের পরিবেশ বিরাজ করছে।
হিন্দি আগ্রাসন নিয়ে কেন চুপ আরএসএস? রাজ ঠাকরে প্রশ্ন তুলেছেন, কেন্দ্রীয় সরকার যখন সারা দেশে জোর করে হিন্দি চাপিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করছে, তখন আরএসএস প্রধান কেন নীরব? তিনি বলেন, “আগে সেই সরকারের কান খুলে দিন যারা হিন্দিকে (যা কোনো জাতীয় ভাষা নয়) সর্বত্র বাধ্যতামূলক করতে চাইছে। আমাদের জ্ঞান দেওয়ার আগে সরকারকে সম্প্রীতির পাঠ পড়ান।” তিনি আরও যোগ করেন যে, মহারাষ্ট্রের মারাঠি পরিচয় বা দক্ষিণ ভারতের ভাষাগত আবেগ কোনো ‘রোগ’ নয়, বরং তা দেশের বৈচিত্র্যের পরিচয়।
গুজরাট ও হিন্দুত্ব ইস্যুতে তোপ রাজ ঠাকরে ভাগবতকে মনে করিয়ে দেন যে, উত্তরপ্রদেশ বা বিহারের মানুষ যখন গুজরাটে আক্রান্ত হয়েছিল, তখন তিনি সেখানে সম্প্রীতির পাঠ দিতে যাননি। এছাড়াও গরুর মাংস রপ্তানি বা হিন্দুত্বের নামে দাঙ্গা নিয়ে কেন সংঘ প্রধান সরব হন না, তা নিয়ে সরব হয়েছেন তিনি। রাজের স্পষ্ট হুঁশিয়ারি, “মারাঠি ভাষা এবং মারাঠি মানুষ আমাদের কাছে অগ্রাধিকার। আঞ্চলিক পরিচয় মুছে ফেলার যেকোনো প্রচেষ্টার বিরুদ্ধে মহারাষ্ট্র শক্তভাবে দাঁড়াবে।”