সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার না কি মাস্টারমাইন্ড চোর? বিলাসবহুল BMW আর ১ কেজি সোনা উদ্ধারে তাজ্জব পুলিশ!

একজন সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ারের কাজ কোডিং করা, কিন্তু হায়দ্রাবাদের ২৭ বছর বয়সী এক যুবক বেছে নিয়েছিলেন চুরির পথ। বিলাসবহুল জীবন আর দামী গাড়ির নেশায় একে একে ২৬টি বাড়িতে ডাকাতি করে শেষমেশ বিশাখাপত্তনম পুলিশের জালে ধরা পড়লেন এই ‘টেকি’ চোর। তাঁর কাছ থেকে উদ্ধার হয়েছে বিপুল পরিমাণ সোনা, রুপো এবং একটি দামী BMW গাড়ি।
বিলাসবহুল জীবনের নেশায় অপরাধ: বিশাখাপত্তনমের পুলিশ কমিশনার শঙ্করব্রত বাগচী জানিয়েছেন, অভিযুক্ত যুবক একটি নামী সফটওয়্যার কোম্পানিতে কর্মরত ছিলেন। কিন্তু সামান্য বেতনে তাঁর দামী শখ পূরণ হচ্ছিল না। তাই তিনি তালাবন্ধ বাড়িগুলোকে টার্গেট করা শুরু করেন। পুলিশ জানিয়েছে, অভিযুক্তের বিরুদ্ধে বিশাখাপত্তনমের বিভিন্ন এলাকায় ২৬টি চুরির মামলা রয়েছে।
চুরির টাকায় BMW ও বিদেশ ভ্রমণ: তদন্তে জানা গেছে, চুরির টাকা দিয়ে ওই ইঞ্জিনিয়ার একটি বিলাসবহুল BMW গাড়ি কিনেছিলেন। সেই গাড়িতে চেপেই তিনি বিভিন্ন এলাকা রেকি করতেন এবং যেসব বাড়ির মালিকরা বাইরে থাকতেন, সেই বাড়িগুলো চিহ্নিত করতেন। কেবল দামী গাড়িই নয়, পুলিশের সন্দেহ চুরির টাকা নিয়ে তিনি একাধিকবার বিদেশ ভ্রমণও করেছেন। গ্রেপ্তারের সময় তাঁর কাছ থেকে প্রায় ৭০০ গ্রাম সোনার গয়না, ৩.৮ কেজি রুপো এবং সেই BMW গাড়িটি উদ্ধার করা হয়েছে।
পুরনো অপরাধী ও চুরির কৌশল: পুলিশের নজর এড়াতে তিনি একই এলাকায় বারবার চুরি করতেন না। হাতুড়ি, কাটার ও স্ক্রু-ড্রাইভারের মতো সাধারণ সরঞ্জাম ব্যবহার করেই তিনি তালা ভাঙতেন এবং সিসিটিভি থেকে বাঁচতে মাস্ক ও টুপি ব্যবহার করতেন। আশ্চর্যের বিষয় হলো, এই যুবকের অপরাধের ইতিহাস বেশ পুরনো। কিশোর বয়সে চুরির দায়ে তিনি হোমে ছিলেন এবং পরবর্তীতে ১৪ মাস জেলও খেটেছেন। সব মিলিয়ে তিনি এখনও পর্যন্ত ৬২টি চুরির ঘটনায় জড়িত বলে প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে।