খুন করতে গিয়েও কেন ভালুক বাঁচালেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট? জানুন ‘টেডি ডে’-র সেই রোমহর্ষক ইতিহাস!

ভ্যালেন্টাইন সপ্তাহের চতুর্থ দিন অর্থাৎ ১০ ফেব্রুয়ারি হলো ‘টেডি ডে’। বর্তমান প্রজন্মের কাছে এটি প্রেমের উপহার হিসেবে অত্যন্ত জনপ্রিয় হলেও, এই তুলতুলে খেলনাটির জন্মের ইতিহাস বেশ নাটকীয় এবং মানবিক। এর নামকরণের কৃতিত্ব সরাসরি দেওয়া হয় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ২৬তম প্রেসিডেন্ট থিওডর রুজভেল্টকে। ১৯০২ সালের নভেম্বর মাসে মিসিসিপিতে এক শিকার অভিযানে গিয়ে রুজভেল্ট একটি আটকে রাখা বুড়ো ভালুককে গুলি করতে অস্বীকার করেন। তাঁর কাছে এই কাজ ছিল ‘অখেলোয়াড়োচিত’ এবং নিষ্ঠুর।
এই মানবিক ঘটনাকে কেন্দ্র করে ওয়াশিংটন পোস্টে একটি কার্টুন ছাপা হয়। সেই কার্টুন দেখে অনুপ্রাণিত হয়ে ব্রুকলিনের এক দোকানদার দম্পতি, মরিস ও রোজ মিশটম একটি কাপড়ের ভালুক ছানা তৈরি করেন। প্রেসিডেন্টের ডাকনাম ‘টেডি’ অনুসরণ করে তাঁরা খেলনাটির নাম রাখতে চান ‘টেডি বিয়ার’। রুজভেল্ট সানন্দে সেই অনুমতি দিয়েছিলেন। ১৯০৩ সাল থেকে শুরু হওয়া এই জয়যাত্রা আজও অব্যাহত।
ধীরে ধীরে টেডি বিয়ার কেবল শিশুদের খেলনা নয়, বরং যত্ন, নিরাপত্তা এবং স্নেহের প্রতীকে পরিণত হয়েছে। ডিজিটাল যুগে দামি ইলেকট্রনিক গ্যাজেটের ভিড়েও টেডি বিয়ার তার গুরুত্ব হারায়নি। কারণ, এটি একটি অনুভূতির নাম। ১০ ফেব্রুয়ারি এই দিনটি পালনের মূল উদ্দেশ্য হলো সঙ্গীকে এমন একটি উপহার দেওয়া যা নিঃশব্দে বলে দেয়, ‘আমি তোমাকে আজীবন এভাবেই আগলে রাখব।’ আজ বিশ্বজুড়ে প্রেমিক-প্রেমিকারা সেই ঐতিহ্যের টানেই একে অপরকে টেডি বিয়ার উপহার দিচ্ছেন।