বিপজ্জনক সংকেত! ৪ দিনে ৩৯ বার কাঁপল সিকিম: ধেয়ে আসছে কি প্রলয়ঙ্করী কোনো মহাপ্রলয়?

সিকিম ও উত্তরবঙ্গের পাহাড়ি অঞ্চলে প্রকৃতির এক রহস্যময় এবং অত্যন্ত উদ্বেগজনক আচরণ ধরা পড়েছে। গত চার দিনে সিকিমে অনুভূত হয়েছে ৩৯টি ভূমিকম্প। রিখটার স্কেলে এই কম্পনগুলোর মাত্রা ৩ থেকে ৪-এর মধ্যে থাকলেও, এর স্থায়িত্ব এবং ধারাবাহিকতা বিশেষজ্ঞদের কপালে চিন্তার ভাঁজ ফেলেছে। শুক্রবার গভীর রাত থেকে শুরু হওয়া এই কম্পন মঙ্গলবার সকাল পর্যন্ত অব্যাহত রয়েছে। এই অস্বাভাবিক ভূ-প্রাকৃতিক অস্থিরতা কি কোনো বড়সড় মহাবিপর্যয়ের পূর্বাভাস? এই প্রশ্নই এখন তাড়া করে বেড়াচ্ছে সিকিম ও পশ্চিমবঙ্গের মানুষকে।
ভূ-তত্ত্ববিদদের মতে, এই ছোট ছোট কম্পনগুলো আসলে ‘ফোর শক’ (Foreshock) হতে পারে। সাধারণত কোনো বিধ্বংসী বড় ভূমিকম্পের আগে টেকটোনিক প্লেটের এমন অস্থিরতা দেখা যায়। মঙ্গলবারের হিসেব অনুযায়ী, নামচি ও মঙ্গন এলাকা বারবার কেঁপে উঠছে। সিকিম বিপর্যয় মোকাবিলা দপ্তর ইতিমধ্যেই রাজ্যজুড়ে হাই অ্যালার্ট জারি করেছে। সাধারণ মানুষকে আতঙ্কিত না হয়ে সতর্ক থাকতে এবং নিরাপদ আশ্রয় খুঁজে রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
বিশেষজ্ঞরা এই ঘটনার কারণ হিসেবে হিমালয়ের ভঙ্গিল পার্বত্য অঞ্চলে মানুষের লাগামহীন হস্তক্ষেপকেও দায়ী করছেন। যত্রতত্র বহুতল নির্মাণ, নদী আটকে বিশাল জলাধার তৈরি এবং পাহাড়ের ভেতরে রেলপথ তৈরির জন্য ডিনামাইট ফাটিয়ে টানেল নির্মাণের ফলে পাহাড়ের গঠনগত ভারসাম্য নষ্ট হচ্ছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। সিকিমে বড় কোনো বিপর্যয় ঘটলে ভৌগোলিক কারণেই তার প্রভাব সরাসরি পড়বে পশ্চিমবঙ্গের উত্তরবঙ্গে। বিশেষ করে শিলিগুড়ি, জলপাইগুড়ি ও দার্জিলিং জেলায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। পর্যটন মরসুমে এমন অস্থিরতা পর্যটকদের মধ্যেও আতঙ্ক ছড়িয়েছে। প্রশাসন পরিস্থিতির ওপর কড়া নজর রাখছে।