কর্ণাটক মন্ত্রিসভায় মহা-বিস্ফোরণ! মন্ত্রীর সংখ্যা ৩২ থেকে বেড়ে ১৪৯, সিদ্দারামাইয়া সরকারের এ কেমন নীতি?

কর্ণাটকের মুখ্যমন্ত্রী সিদ্দারামাইয়ার নেতৃত্বাধীন কংগ্রেস সরকার এক নজিরবিহীন প্রশাসনিক সিদ্ধান্তের জেরে তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েছে। রাজ্যে সরকারিভাবে মন্ত্রীর সংখ্যা ৩২ থাকলেও, কার্যত মন্ত্রীর মর্যাদা বা প্রতিমন্ত্রীর (MoS) সুবিধা পাচ্ছেন এমন ব্যক্তির সংখ্যা একলাফে বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৪৯ জনে। সংবিধান অনুযায়ী কোনো রাজ্যে মন্ত্রী সংখ্যা ৩৪-এর বেশি হওয়া সম্ভব নয়, কিন্তু কর্ণাটক সরকার আইনপ্রণেতা থেকে শুরু করে দলীয় পদাধিকারীদের মন্ত্রীর পদমর্যাদা দিয়ে এক নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।

পদ ও সুবিধার বন্যা: রিপোর্ট অনুযায়ী, সরকার সম্প্রতি আরও ৫৪ জনকে প্রতিমন্ত্রীর মর্যাদা দিয়েছে। বর্তমানে ৪৩ জন বিধায়ক এবং ৯ জন অ-বিধায়ক ক্যাবিনেট মন্ত্রীর সুবিধা পাচ্ছেন। অন্যদিকে, ১১ জন বিধায়ক ও ৫৪ জন অ-বিধায়ককে দেওয়া হয়েছে প্রতিমন্ত্রীর তকমা। এদের মধ্যে রয়েছেন সরকারের বিভিন্ন উপদেষ্টা এবং বিশেষ প্রতিনিধিরা।

রাজকোষে কত বড় কোপ? এই ১৪৯ জন পদাধিকারীর প্রত্যেকের জন্য বরাদ্দ সুবিধার তালিকা দীর্ঘ:

  • মাসিক বেতন ও ভাতা: ৫০ হাজার টাকা বেতন ছাড়াও রয়েছে ৮০ হাজার টাকা বাড়ি ভাড়া এবং ৮০ হাজার টাকা আতিথেয়তা ভাতা।

  • জ্বালানি খরচ: মাসে ১,০০০ লিটার জ্বালানি, যার বাজারমূল্য প্রায় ১ লক্ষ টাকা।

  • প্রশাসনিক কর্মী: ব্যক্তিগত সচিব, সহকারী এবং গাড়ি চালকের বিশাল বাহিনী।

  • চিকিৎসা খরচ: সম্পূর্ণ সরকারি খরচে চিকিৎসা পরিষেবা।

সরকারের যুক্তি বনাম বিরোধীদের তোপ: রাজ্য যখন ইতিমধ্যেই জনমোহিনী গ্যারান্টি প্রকল্পগুলি চালাতে হিমশিম খাচ্ছে, তখন এই বিপুল সংখ্যক ব্যক্তিকে ‘মন্ত্রীর মর্যাদা’ দিয়ে রাজকোষের ওপর বাড়তি বোঝা চাপানোর কড়া সমালোচনা করছেন আর্থিক বিশেষজ্ঞরা। বিজেপি এবং অন্যান্য বিরোধী দলগুলির অভিযোগ, নিজেদের ক্ষমতা টিকিয়ে রাখতে এবং দলের অসন্তুষ্ট নেতাদের শান্ত করতেই এই ‘পদ বিলানোর মেলা’ বসিয়েছেন সিদ্দারামাইয়া।