ওম বিড়লাকে সরানোর প্রস্তুতি বিরোধীদের! স্পিকারকে পদচ্যুত করার আসল নিয়মটি জানেন কি?

লোকসভার উত্তপ্ত আবহে এবার সরাসরি স্পিকার ওম বিড়লার বিরুদ্ধেই খড়গহস্ত বিরোধীরা। কংগ্রেসের অভিযোগ, স্পিকার বিরোধী দলনেতাকে কথা বলতে বাধা দিচ্ছেন এবং শাসকদলের প্রতি পক্ষপাতিত্ব করছেন। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে, ইন্ডিয়া (INDIA) জোট এখন স্পিকারকে পদ থেকে সরানোর তোড়জোড় শুরু করেছে। তবে সাধারণ অনাস্থা প্রস্তাব আর স্পিকারের অপসারণের প্রক্রিয়ার মধ্যে রয়েছে আকাশ-পাতাল পার্থক্য।

সংবিধানের ৯৪(গ) ধারা কী বলে? সংবিধান বিশেষজ্ঞ সঞ্জয় শ্রীবাস্তবের মতে, লোকসভার স্পিকারকে সরানোর প্রক্রিয়াটি সাধারণ অনাস্থা প্রস্তাবের মতো নয়। একে বলা হয় ‘অপসারণ প্রস্তাব’। সংবিধানের ৯৪(গ) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, স্পিকারকে সরাতে হলে অন্তত ১৪ দিন আগে লিখিত নোটিশ দিতে হবে। সেই নোটিশে কমপক্ষে ৫০ জন সংসদ সদস্যের স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক।

ভোটাভুটির জটিল অঙ্ক: যেই দিন স্পিকারের বিরুদ্ধে এই প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা হবে, সেই দিন তিনি সভাপতিত্ব করতে পারবেন না। সভা পরিচালনা করবেন ডেপুটি স্পিকার বা অন্য কোনো সিনিয়র সদস্য। স্পিকারকে সরানোর জন্য কোনো ‘বিশেষ সংখ্যাগরিষ্ঠতা’র প্রয়োজন হয় না; কেবল উপস্থিত ও ভোটদানকারী সদস্যদের মধ্যে ৫০% + ১ জনের সমর্থন থাকলেই স্পিকার পদচ্যুত হবেন।

ইতিহাস কী বলছে? ভারতের সংসদীয় ইতিহাসে আজ পর্যন্ত কোনো স্পিকারকেই এই প্রক্রিয়ায় অপসারিত হতে হয়নি। নীলম সঞ্জীব রেড্ডি থেকে শুরু করে মীরা কুমার কিংবা ওম বিড়লা—অনেকের বিরুদ্ধেই অতীতে নোটিশ দেওয়া হয়েছে, কিন্তু তা কখনো কার্যকর হয়নি। বিরোধীদের এই পদক্ষেপ কি কেবলই একটি রাজনৈতিক প্রতীকী লড়াই, নাকি সত্যিই ওম বিড়লার চেয়ার টলমল? উত্তর দেবে সময়।