পিঙ্কি প্রমিস থেকে রোমান ইতিহাস— কেন পালিত হয় ‘প্রমিস ডে’? জেনে নিন এর আসল গুরুত্ব

গোলাপের সুগন্ধ, চকোলেটের মিষ্টত্ব আর টেডির নরম পরশ পেরিয়ে ভ্যালেন্টাইন সপ্তাহ আজ এক পরিণত ধাপে পা রাখল। আজ ১১ ফেব্রুয়ারি, ‘প্রমিস ডে’। সম্পর্কের রসায়নে অঙ্গীকারের গুরুত্ব অপরিসীম। উপহারের আদান-প্রদান তো চলতেই থাকে, কিন্তু আজকের দিনটি হলো আগামীর কঠিন পথে একে অপরের হাত শক্ত করে ধরার শপথ নেওয়ার দিন।
মনোবিদদের মতে, প্রমিস ডে পালন করার মূল উদ্দেশ্য হলো সম্পর্কের ভেতরে বিশ্বাস ও ভরসার জায়গাটিকে আরও মজবুত করা। ভালোবাসা গড়ে তোলা যতটা সহজ, তাকে বছরের পর বছর টিকিয়ে রাখা ততটাই কঠিন। ছোট ছোট মান-অভিমান ভুলে সারাজীবন ছায়ার মতো পাশে থাকার অঙ্গীকারই এই দিনটির মূল ভিত্তি। তবে বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলছেন, আবেগের বশে এমন কোনো মিথ্যা প্রতিশ্রুতি দেওয়া উচিত নয় যা রাখা সম্ভব নয়; কারণ রক্ষা না করা প্রতিশ্রুতি সম্পর্কের ফাটলকে আরও বাড়িয়ে দিতে পারে।
ইতিহাস ঘেঁটে দেখা যায়, মধ্যযুগ থেকেই ইউরোপে প্রেমের মাস হিসেবে পরিচিত ফেব্রুয়ারিতে প্রেমিক-প্রেমিকারা একে অপরকে বিশেষ শপথ বা ‘ওথ’ (Oath) নেওয়ার রেওয়াজ শুরু করেছিলেন। অনেকে মনে করেন, প্রাচীন রোমান সংস্কৃতিতে বিয়ের দেবী ‘জুনো’-র নাম স্মরণ করে শপথ নেওয়ার প্রথা থেকেই এই দিনের অনুপ্রেরণা এসেছে। উনিশ শতকের শেষের দিকে ভ্যালেন্টাইন সপ্তাহ প্রাতিষ্ঠানিক রূপ পাওয়ার সময় এই দিনটিকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়, যাতে সম্পর্কের গভীরতা কেবল উপহারে আটকে না থেকে মানসিক ও আধ্যাত্মিক স্তরে পৌঁছাতে পারে।
বর্তমানে এই দিনটি নিয়ে তরুণ প্রজন্মের মধ্যে উন্মাদনা তুঙ্গে। কনিষ্ঠ আঙুলে আঙুল মিলিয়ে সেই ছোটবেলার ‘পিঙ্কি প্রমিস’ থেকে শুরু করে ভিডিও কলে ডিজিটাল প্রতিশ্রুতি— সব মিলিয়ে ভালোবাসার অঙ্গীকারে ভাসছে নেটপাড়া। আকাশছোঁয়া প্রতিশ্রুতি না দিয়ে বরং ‘বিপদে পাশে থাকা’ বা ‘একে অপরের প্রতি সৎ থাকা’র মতো বাস্তবসম্মত অঙ্গীকারই আজ সম্পর্কের সেরা উপহার হতে পারে।