হাসিনা বিহীন বাংলাদেশ: ১২ ফেব্রুয়ারির হাইভোল্টেজ নির্বাচনে কার পাল্লা ভারী? বিএনপি না জামায়াত?

দীর্ঘ টালবাহানা আর রাজনৈতিক পালাবদলের পর অবশেষে ঐতিহাসিক সন্ধিক্ষণে বাংলাদেশ। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হতে চলেছে দেশটির বহুল প্রতীক্ষিত সাধারণ নির্বাচন। প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ক্ষমতাচ্যুতি এবং আওয়ামী লিগের অনুপস্থিতিতে এবারের নির্বাচন কার্যত এক নতুন সমীকরণের জন্ম দিয়েছে। ৩০০ আসনের জাতীয় সংসদে লড়াইয়ের ময়দানে নেমেছে ৫১টি রাজনৈতিক দল। তবে এই বিশাল তালিকার মধ্যেও মূল আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামী।

বিএনপির হাল এখন লন্ডনে নির্বাসিত নেতা তারেক রহমানের হাতে। দুর্নীতিবিরোধী অবস্থান এবং অর্থনৈতিক উদারীকরণের প্রতিশ্রুতি দিয়ে ময়দানে নামা বিএনপির ভোট শতাংশ ৩৩ থেকে ৩৫-এর ঘরে ঘোরাফেরা করছে বলে জানাচ্ছে সাম্প্রতিক সমীক্ষা। অন্যদিকে, সম্পূর্ণ নতুন রণকৌশলে এগোচ্ছে জামায়াতে ইসলামী। শফিকুর রহমানের নেতৃত্বে থাকা এই দলটি এবার ৮০ শতাংশ নতুন মুখ এবং প্রথমবারের মতো কৃষ্ণা নন্দী নামে এক হিন্দু প্রার্থীকে টিকিট দিয়ে চমক সৃষ্টি করেছে। তাদের সম্ভাব্য ভোট শতাংশ ৩০ থেকে ৩৪।

রাজনীতিতে নতুনত্বের ছোঁয়া নিয়ে এসেছেন ২৭ বছরের ছাত্রনেতা নাহিদ ইসলাম। তরুণ প্রজন্মের এই প্রতিনিধি সংবিধান সংস্কারের ডাক দিলেও সাংগঠনিক দুর্বলতা এবং অভ্যন্তরীণ কোন্দল তাঁর দলের মাথাব্যথার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এবারের নির্বাচনে ১,৯৮১ জন প্রার্থীর মধ্যে ৮০ জন সংখ্যালঘু প্রার্থী লড়ছেন, যা বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক ইতিহাসে এক ইতিবাচক দিক।

বিগত নির্বাচনগুলোর ইতিহাস বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, ২০২৪ সালে আওয়ামী লিগ একতরফাভাবে ২২৩টি আসন জিতেছিল, যেখানে ভোটার উপস্থিতি ছিল নগণ্য। কিন্তু ২০২৬-এর এই নির্বাচনে প্রেক্ষাপট ভিন্ন। হিংসা ও বয়কটের ছায়া কাটিয়ে বাংলাদেশ কি পারবে একটি স্বচ্ছ গণতান্ত্রিক সরকার উপহার দিতে? উত্তর মিলবে আগামী সপ্তাহেই।