২০ টাকা না নিয়েও ৩০ বছর জেলে! আদালতের রায়ে কলঙ্ক মুছল ঠিকই, কিন্তু পরদিনই সব শেষ…

নিয়তির নিষ্ঠুর পরিহাস বোধহয় একেই বলে। অভিযোগ ছিল মাত্র ২০ টাকা ঘুষ নেওয়ার। সেই সামান্য ২০ টাকার জন্য জীবনের মূল্যবান ৩০টি বছর কেটে গিয়েছিল আদালতের চক্কর কাটতে আর কারাবাসে। অবশেষে গুজরাট হাইকোর্ট তাঁকে সসম্মানে মুক্তি দিল, মুছে গেল কয়েক দশকের জমাট বাঁধা কলঙ্ক। কিন্তু মুক্তির সেই স্বাদ উপভোগ করার জন্য হাতে মাত্র ২৪ ঘণ্টাও সময় পেলেন না তিনি। নির্দোষ প্রমাণিত হওয়ার ঠিক পরের দিনই না- ফেরার দেশে চলে গেলেন গুজরাট পুলিশের কনস্টেবল বাবুভাই প্রজাপতি।
ঘটনার সূত্রপাত ১৯৯৬ সালে: আহমেদাবাদে কর্মরত থাকাকালীন ১৯৯৬ সালে বাবুভাইয়ের বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন আইনে মামলা হয়। অভিযোগ ছিল ২০ টাকা ঘুষ নেওয়ার। দীর্ঘ আইনি টানাপোড়েনের পর ২০০৪ সালে সেশন কোর্ট তাঁকে দোষী সাব্যস্ত করে ৪ বছরের জেল ও ৩০০০ টাকা জরিমানার নির্দেশ দেয়। কিন্তু হার মানেননি বাবুভাই। নিজের সততা প্রমাণ করতে তিনি দ্বারস্থ হন গুজরাট হাইকোর্টের। সেখানে দীর্ঘ ২২ বছর ঝুলে ছিল তাঁর আপিল।
মৃত্যুর আগে শেষ কথা: গত ৪ ফেব্রুয়ারি আদালত জানায়, বাবুভাইয়ের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ ছিল সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। সাক্ষীদের বয়ানে ছিল বিস্তর অসঙ্গতি। নির্দোষ প্রমাণিত হওয়ার পর বৃদ্ধ বাবুভাই বলেছিলেন, “জীবনের কলঙ্ক মুছে গেল, এবার ভগবান নিয়ে নিলেও আক্ষেপ নেই।” আর সেটাই সত্যি হলো। তাঁর আইনজীবী জানান, বাড়ি ফেরার পরদিন ভোরেই হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু হয় তাঁর। অর্ধেক জীবন জেল আর আদালতের বারান্দায় কাটানো মানুষটি যেন শুধু সম্মানটুকু ফিরে পাওয়ার অপেক্ষাতেই বেঁচে ছিলেন। কলঙ্কমুক্ত হয়েই চিরতরে চোখ বুজলেন তিনি।