লম্বোর গঙ্গোরামায় ভগবান বুদ্ধের পবিত্র দেহাবশেষ! ভারত-শ্রীলঙ্কা সম্পর্কে এক ঐতিহাসিক ও আধ্যাত্মিক মুহূর্ত

ভারত ও শ্রীলঙ্কার আড়াই হাজার বছরের পুরনো সভ্যতার মেলবন্ধন এক নতুন উচ্চতায় পৌঁছাতে চলেছে। আগামী ৪ থেকে ১০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ পর্যন্ত গুজরাটের দেবনিমোরি থেকে ভগবান বুদ্ধের পবিত্র দেহাবশেষ শ্রীলঙ্কায় প্রদর্শিত হবে। ভারতের সংস্কৃতি মন্ত্রকের এই ঐতিহাসিক উদ্যোগে কলম্বোর গঙ্গোরামায় মন্দিরে পূর্ণ রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় এই পবিত্র অবশেষ স্থাপন করা হবে। গুজরাটের রাজ্যপাল এবং উপ-মুখ্যমন্ত্রীর নেতৃত্বে এক উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি দলও এই আধ্যাত্মিক সফরের সঙ্গী হবেন।
এই ধর্মীয় আয়োজন কেবল বিশ্বাসের প্রতীক নয়, বরং এটি ভারত-শ্রীলঙ্কার গভীর কূটনৈতিক ও সাংস্কৃতিক সম্পর্কের এক শক্তিশালী সেতু। ২০২২ সালের ভয়াবহ অর্থনৈতিক সংকটের সময় ভারত প্রায় ৪ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের নিঃশর্ত সাহায্য পাঠিয়ে শ্রীলঙ্কার পাশে দাঁড়িয়েছিল। এছাড়া সাম্প্রতিক ঘূর্ণিঝড় ‘দিতওয়াহ’-র তাণ্ডবেও ভারত ‘অপারেশন সাগর বন্ধু’-র মাধ্যমে প্রথম দেশ হিসেবে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেয়। ৩০০ টনের বেশি ত্রাণসামগ্রী এবং ৪৫০ মিলিয়ন ডলারের পুনর্গঠন প্যাকেজ দিয়ে ভারত প্রমাণ করেছে তারা শুধু প্রতিবেশী নয়, বরং শ্রীলঙ্কার প্রকৃত সুহৃদ।
বাণিজ্যিক ও কৌশলগত দিক থেকেও এই সম্পর্ক অনন্য। ২০০০ সাল থেকে কার্যকর থাকা মুক্ত বাণিজ্য চুক্তির (ISFTA) মাধ্যমে দুই দেশের ব্যবসা কয়েক গুণ বেড়েছে। সৌর বিদ্যুৎ প্রকল্প থেকে শুরু করে আইটিইসি (ITEC) স্কলারশিপ—প্রতিটি ক্ষেত্রে ভারতের অবদান শ্রীলঙ্কার সমৃদ্ধিতে সহায়ক হচ্ছে। ত্রিনকোমালি তেল ট্যাঙ্ক ফার্মের যৌথ উন্নয়ন দুই দেশের জ্বালানি নিরাপত্তাকে আরও শক্তিশালী করেছে। মূলত পারস্পরিক সম্মান এবং উন্নয়নের লক্ষ্যই আজ ভারত-শ্রীলঙ্কা বন্ধুত্বকে বিশ্বমঞ্চে এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে।