নির্বাচনের মুখে বিএনপির ৫১ দফা ইশতেহার! প্রধানমন্ত্রীর মেয়াদে কাটছাঁট থেকে উচ্চকক্ষ গঠন— কী আছে তারেক রহমানের তুরুপের তাসে?

বাংলাদেশের হাইভোল্টেজ নির্বাচনের ঠিক ছয় দিন আগে বড় চমক দিল প্রধান বিরোধী দল বিএনপি। দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান তাঁর ৫১ দফা নির্বাচনী ইশতেহার প্রকাশ করেছেন। ২০৩৪ সালের মধ্যে একটি ‘নতুন বাংলাদেশ’ গড়ার স্বপ্ন নিয়ে এই ইশতেহারে যেমন জনমোহিনী প্রকল্প আছে, তেমনই আছে বড় ধরনের প্রশাসনিক সংস্কারের ঘোষণা। তবে অবাক করার মতো বিষয় হলো, গোটা ইশতেহারে কোথাও শেখ হাসিনার নাম উল্লেখ করেনি বিএনপি।

ইশতেহারের ১০টি বড় ঘোষণা:

  • প্রধানমন্ত্রীর মেয়াদ: কোনো ব্যক্তি দুই মেয়াদের বেশি অর্থাৎ ১০ বছরের বেশি প্রধানমন্ত্রী বা রাষ্ট্রপতি থাকতে পারবেন না।

  • সংসদে উচ্চকক্ষ: বর্তমানে বাংলাদেশে কেবল ‘জাতীয় সংসদ’ থাকলেও বিএনপি ক্ষমতায় এলে একটি উচ্চকক্ষ (রাজ্যসভা) গঠন করবে। যেখানে ২০ শতাংশ আসন মহিলাদের জন্য সংরক্ষিত থাকবে।

  • ভাতা ও কর্মসংস্থান: প্রতিটি দরিদ্র পরিবারকে মাসে ২,৫০০ টাকা করে ভাতা এবং শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতে দেড় লক্ষ নতুন চাকরির প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে।

  • পররাষ্ট্র নীতি: ‘সবার সঙ্গে বন্ধুত্ব, কারো সঙ্গে হস্তক্ষেপ নয়’— এই নীতির কথা জানিয়ে ভারতের নাম না নিয়েও একটি ভারসাম্যপূর্ণ স্বাধীন পররাষ্ট্র নীতির ইঙ্গিত দিয়েছে বিএনপি।

  • অনুচ্ছেদ ৭০-এর সংস্কার: রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে সংসদ সদস্যদের দলত্যাগ বিরোধী আইন আরও কঠোর করার কথা বলা হয়েছে।

  • পরিবেশ ও দুর্নীতি: দেশে ১ কোটি ৫০ লক্ষ গাছ লাগানো এবং দুর্নীতি দমনে উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠনের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন তারেক রহমান।

বিশেষজ্ঞদের মতে, শেখ হাসিনার নাম না নেওয়াটা বিএনপির একটি সুপরিকল্পিত কৌশল। তাঁরা সম্ভবত আওয়ামী লীগের ভোটারদের বড় একটি অংশকে নিজেদের দিকে টানতে চাইছেন। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ভোট গ্রহণ এবং ১৫ ফেব্রুয়ারি ফলাফল প্রকাশিত হবে।