“নিয়োগ দুর্নীতির তল খুঁজে পাওয়া অসম্ভব!” অবসর নিয়েই বিস্ফোরক বিচারপতি বিশ্বজিৎ বসু

কলকাতা হাইকোর্টের সদ্য অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি বিশ্বজিৎ বসু তাঁর আপসহীন অবস্থানের জন্য পরিচিত ছিলেন। বিশেষ করে শিক্ষক নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় তাঁর কড়া পর্যবেক্ষণ রাজ্য রাজনীতিতে তোলপাড় সৃষ্টি করেছিল। সম্প্রতি এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে তিনি তাঁর বিচারবিভাগীয় অভিজ্ঞতার অন্ধকার দিকগুলি তুলে ধরেন। তিনি স্পষ্ট জানান, দুর্নীতির এমন ভয়াবহ রূপ তিনি স্বপ্নেও কল্পনা করতে পারেননি।

দমবন্ধ করা সেই বিচারপ্রক্রিয়া: বিচারপতি বসুর কথায়, “নিয়োগ দুর্নীতি নিয়ে কাজ করতে গিয়ে আমার দমবন্ধ হয়ে আসত। অনেক বিনিদ্র রাত কাটিয়েছি আমি।” তিনি আক্ষেপ করে জানান, দুর্নীতির জাল এতটাই সুপরিকল্পিত যে ‘চাল আর কাঁকর’ আলাদা করা কার্যত অসম্ভব করে তোলা হয়েছে। তিনি আরও বলেন, সিবিআই (CBI) বা সিআইডি-র (CID) মতো সংস্থাগুলোর তদন্ত প্রক্রিয়াও তাঁকে বারংবার হতাশ করেছে। এমনকি সুপ্রিম কোর্টে সিবিআই-এর অনুপস্থিতিকে তিনি ‘ভূতের গল্পের’ মতো রহস্যজনক বলে অভিহিত করেছেন।

শিক্ষা ব্যবস্থার কফিনে শেষ পেরেক: বিচারপতি শুধু নিয়োগ দুর্নীতি নয়, বরং সরকারি স্কুলের পরিকাঠামো এবং বদলি প্রথার (উৎসশ্রী পোর্টাল) অপব্যবহার নিয়েও মুখ খুলেছেন। তাঁর মতে, শহরের স্কুলে শিক্ষকের ভিড় অথচ ছাত্র নেই, আবার গ্রামের স্কুলে ৩০০০ ছাত্রের বিপরীতে মাত্র একজন শিক্ষক—এই অসামঞ্জস্য রাজ্যের শিক্ষাব্যবস্থাকে ধ্বংসের মুখে ঠেলে দিচ্ছে। তিনি হিন্দু স্কুলের মতো ঐতিহ্যবাহী শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের দুরবস্থার কথা উল্লেখ করে বলেন, “যেখানে শিক্ষকের অভাব আর নোংরা পরিবেশ নিত্যসঙ্গী, সেখানে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম কী শিখবে?” শেষে তাঁর আক্ষেপ, বাঙালির নীতিবোধ আজ এমন জায়গায় পৌঁছেছে যেখানে দুর্নীতিও ‘স্বাভাবিক’ বলে মনে করা হচ্ছে।