রেলপথে বিপ্লব! ৩৭৩% বৃদ্ধি পেল সোলার পাওয়ার, উত্তর-পূর্ব সীমান্ত রেলওয়ের মাস্টারস্ট্রোক!

উত্তর-পূর্ব সীমান্ত রেলওয়ে (NFR) চলতি আর্থিক বছরে পুনর্নবীকরণযোগ্য শক্তি, বৈদ্যুতিক ট্র্যাকশন এবং যাত্রী সুরক্ষার ক্ষেত্রে এক অভূতপূর্ব মাইলফলক স্পর্শ করেছে। রেলের আধুনিকীকরণ এবং পরিবেশবান্ধব যাতায়াত ব্যবস্থার প্রতি অঙ্গীকারবদ্ধ হয়ে এনএফ রেলওয়ে একের পর এক বড় পদক্ষেপ গ্রহণ করছে, যা এই অঞ্চলের যোগাযোগ ব্যবস্থায় নতুন দিগন্ত উন্মোচিত করেছে।

সৌরবিদ্যুতে রেকর্ড সাফল্য: পরিবেশ রক্ষায় গ্রিন এনার্জি প্রকল্পের অধীনে ২০২৫-২৬ আর্থিক বছরে (ডিসেম্বর ২০২৫ পর্যন্ত) উত্তর-পূর্ব সীমান্ত রেলওয়ে ৯.২৭ মেগাওয়াট রুফটপ সোলার পাওয়ার প্ল্যান্ট স্থাপন করেছে। বিস্ময়কর তথ্য হলো, এই সাফল্য গত অর্থবছরের তুলনায় ৩৭৩% বেশি। ২০১১-১২ সালের পর এক অর্থবছরে এটিই সর্বোচ্চ সোলার ক্যাপাসিটি স্থাপন। এর ফলে মোট সোলার পাওয়ার ক্যাপাসিটি দাঁড়িয়েছে ১৮.৪ মেগাওয়াট, যা কার্বন নিঃসরণ কমিয়ে রেলকে আরও পরিবেশবান্ধব করে তুলেছে।

বিদ্যুতায়ন ও সুরক্ষা ব্যবস্থা: রেলপথের আধুনিকীকরণে বড় মাইলফলক হিসেবে নিউ জলপাইগুড়ি এবং ডিব্রুগড়ে নতুন ট্রিপ ইন্সপেকশন (TRIP) শেড চালু করা হয়েছে। এর ফলে বৈদ্যুতিক লোকোমোটিভের রক্ষণাবেক্ষণ আরও সহজ ও দ্রুত হবে। শুধু গতি নয়, সুরক্ষাতেও জোর দিচ্ছে রেল। দেশীয় প্রযুক্তিতে তৈরি ‘কবচ’ (Automatic Train Protection System) ইতিমধ্যেই ৮১টি বৈদ্যুতিক লোকোমোটিভে স্থাপন করা হয়েছে। মোট ২৮৫টি লোকোমোটিভের মধ্যে বাকিগুলোতেও দ্রুত এই কাজ সম্পন্ন করার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে।

ডিজেল ইঞ্জিনের বিদায়: পরিবেশ দূষণ রোধে ৩১ জোড়া ট্রেনকে ডিজেল থেকে সম্পূর্ণ ইলেকট্রিক ট্র্যাকশনে রূপান্তরিত করা হয়েছে। এর ফলে ২৬টি ডিজেল লোকোমোটিভের সাশ্রয় হয়েছে এবং জ্বালানি খরচ অনেকটাই কমেছে। এছাড়া রেল কর্মীদের দক্ষতা বাড়াতে নিউ বঙ্গাইগাঁও লবিতে অটোমেটিক ব্লক সিস্টেমের মডেল তৈরি করা হয়েছে এবং কাটিহার, আলিপুরদুয়ারসহ বিভিন্ন ডিভিশনে রাতের ভিডিওগ্রাফির মাধ্যমে রুট লার্নিংয়ের বিশেষ প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে।