বাঁকুড়ায় বালি তুলতে গিয়ে হাড়হিম করা কাণ্ড! দামোদরের চরে এ কী উঠে এল?

বাঁকুড়ার সোনামুখী ব্লকের ডিহিপাড়া গ্রাম পঞ্চায়েতের রাঙামাটি ফেরিঘাট এলাকায় বালি উত্তোলনের সময় এক অভূতপূর্ব ও হাড়হিম করা ঘটনায় তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। বৃহস্পতিবার নদী থেকে পে-লোডার দিয়ে বালি তোলার সময় হঠাৎই বালির স্তূপ থেকে একে একে তিনটি বিশালাকার ধাতব শেল বেরিয়ে আসে। মুহূর্তের মধ্যে সেই খবর ছড়িয়ে পড়তেই গোটা এলাকায় আতঙ্ক ও কৌতূহল দানা বাঁধে।

স্থানীয় বাসিন্দা কার্তিক জানা জানান, “বালি তোলার সময় হঠাৎই লোহার মতো দেখতে ওই বড় বড় বস্তুগুলো সামনে আসে। আমরা আগে কখনও এমন কিছু দেখিনি। সবাই আতঙ্কে দৌড়াদৌড়ি শুরু করে দেয়।” খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায় সোনামুখী থানার পুলিশ এবং জেলা পুলিশের বম্ব স্কোয়াড। বিস্ফোরণের সামান্যতম ঝুঁকি এড়াতে দ্রুত এলাকাটি ঘিরে ফেলে পুলিশ। বড় আকারের এই শেলগুলির চারপাশ বালির বস্তা দিয়ে মজবুত প্রাচীর তৈরি করা হয়েছে যাতে কোনও রকম কম্পন বা আঘাতে অঘটন না ঘটে।

বিশেষজ্ঞদের প্রাথমিক ধারণা, এই মর্টার শেলগুলি সম্ভবত দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময়কার। বাঁকুড়ার দ্বারকেশ্বর বা দামোদর নদ থেকে এর আগেও বিচ্ছিন্নভাবে একটি বা দুটি শেল মিলেছিল, কিন্তু একসঙ্গে তিনটি দানবীয় আকৃতির শেল উদ্ধারের ঘটনা জেলায় এই প্রথম। পুলিশের অনুমান, এই শক্ত লোহার খোলের ভেতরে এখনও শক্তিশালী বিস্ফোরক থাকতে পারে, যা অত্যন্ত বিপজ্জনক।

বাঁকুড়ার পুলিশ সুপার সৌম্যদীপ ভট্টাচার্য জানিয়েছেন, “খবর পাওয়ার সাথে সাথেই আমরা নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করেছি। বম্ব স্কোয়াড বর্তমানে এলাকাটি নজরে রাখছে। তবে বিষয়টির গুরুত্ব বিবেচনা করে সেনাবাহিনীর বিশেষজ্ঞ দলের সঙ্গে যোগাযোগের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। সেনার সাহায্যেই এই শেলগুলিকে নিরাপদ স্থানে নিয়ে গিয়ে নিষ্ক্রিয় করা হবে।” বর্তমানে রাঙামাটি ফেরিঘাট এলাকায় পুলিশি প্রহরা বসানো হয়েছে এবং সাধারণ মানুষকে নদী তীরের ওই অংশ থেকে দূরে থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।