ট্রাম্পের মাস্টারস্ট্রোক! চিনের তুলনায় অর্ধেক শুল্কে আমেরিকায় ঢুকবে ভারতীয় পণ্য, কপাল পুড়ল বাংলাদেশেরও

ভারত ও আমেরিকার বাণিজ্যিক সম্পর্কের এক নতুন সোনালী অধ্যায়ের সূচনা হলো। ২০২৬ সালের ২ ফেব্রুয়ারি রাতে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এবং মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মধ্যে একটি ঐতিহাসিক ফোনালাপের পরেই বদলে গেল বিশ্ব বাণিজ্যের সমীকরণ। গত বছর ভারতের ওপর যে শুল্কের বোঝা ৫০ শতাংশে গিয়ে ঠেকেছিল, এক ধাক্কায় তা কমিয়ে মাত্র ১৮ শতাংশ করার ঘোষণা করেছেন ট্রাম্প।

কীভাবে এল এই জয়? সূত্রের খবর, এই চুক্তির পেছনে রয়েছে একটি বড় কূটনৈতিক শর্ত। ট্রাম্প তাঁর ‘ট্রুথ সোশ্যাল’ হ্যান্ডেলে জানিয়েছেন যে, ভারত রাশিয়ার থেকে তেল কেনা বন্ধ করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। পরিবর্তে ভেনেজুয়েলা এবং আমেরিকা থেকে তেল আমদানি করবে নয়াদিল্লি। মোদী-ট্রাম্পের এই ব্যক্তিগত বন্ধুত্বের জেরেই অবিলম্বে কার্যকর হচ্ছে ১৮ শতাংশের এই বিশেষ শুল্ক হার।

প্রতিযোগিতায় অনেকটাই পিছিয়ে প্রতিবেশী দেশগুলো: এই নয়া চুক্তির ফলে দক্ষিণ এশীয় বাজারে ভারত এখন সবথেকে শক্তিশালী অবস্থানে। বর্তমানে বাংলাদেশে তৈরি পণ্যের ওপর আমেরিকায় ২০ শতাংশ শুল্ক দিতে হয়। পাকিস্তান ও থাইল্যান্ডের ওপর রয়েছে ১৯ শতাংশ শুল্ক। সবথেকে বড় স্বস্তি এসেছে চিনের তুলনায়। চিনা পণ্যের ওপর বর্তমানে আমেরিকায় ৩৪ শতাংশ শুল্ক ধার্য রয়েছে, যা ভারতের তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ। এমনকি কানাডা (৩৫%) বা সুইজারল্যান্ডের (৩৯%) মতো উন্নত দেশগুলোও ভারতের থেকে অনেক বেশি শুল্ক দিতে বাধ্য হচ্ছে।

প্রধানমন্ত্রী মোদীর প্রতিক্রিয়া: এই ঐতিহাসিক সিদ্ধান্তে উচ্ছ্বসিত প্রধানমন্ত্রী মোদী। তিনি ‘এক্স’-এ লিখেছেন, “‘মেক ইন ইন্ডিয়া’ পণ্যের ওপর শুল্ক কমে ১৮ শতাংশ হওয়ায় আমরা অত্যন্ত আনন্দিত। ১৪০ কোটি ভারতবাসীর পক্ষ থেকে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে ধন্যবাদ।” বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এই সিদ্ধান্তের ফলে ভারতে বিনিয়োগ বাড়বে এবং রপ্তানি বাণিজ্য এক লাফে কয়েক গুণ বৃদ্ধি পাবে।