‘সব চুক্তির জননী’! ইউরোপের বাজারে ভারতের রাজত্ব শুরু, মাথায় হাত পাকিস্তান ও বাংলাদেশের

বিশ্ব বাণিজ্যের মানচিত্রে এক ঐতিহাসিক পটপরিবর্তন! দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর ভারত ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের (EU) মধ্যে চূড়ান্ত হয়ে গেল মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (FTA), যাকে বিশেষজ্ঞরা বলছেন ‘মাদার অফ অল ডিলস’। এই চুক্তির জেরে ইউরোপের বাজারে ভারতের আধিপত্য যেমন বাড়বে, তেমনই অস্তিত্বের সঙ্কটে পড়তে চলেছে পাকিস্তান ও বাংলাদেশ। গত কয়েক দশক ধরে ইউরোপের বাজারে প্রতিবেশী দেশ দুটির যে একচেটিয়া দাপট ছিল, তাতে এবার দাঁড়ি টানল নয়াদিল্লি।
ধস নামবে পড়শিদের রফতানিতে? বস্ত্রশিল্প থেকে শুরু করে নানাবিধ পণ্য রফতানিতে ইউরোপের বাজারে এতদিন রাজত্ব করেছে পাকিস্তান ও বাংলাদেশ। ২০১৪ সালে পাকিস্তান ‘জিএসপি প্লাস’ মর্যাদা পাওয়ায় এবং ১৯৭৫ সাল থেকে বাংলাদেশ অনুন্নত দেশ হিসেবে বিশেষ সুবিধা পাওয়ায় তারা শুল্কমুক্ত রফতানির সুবিধা পেত। কিন্তু ভারতের সঙ্গে এই নতুন চুক্তির ফলে এখন ৯৬ শতাংশ ভারতীয় পণ্য ইউরোপের বাজারে শুল্কমুক্ত প্রবেশাধিকার পাবে। এর ফলে গুণগত মানে উন্নত ভারতীয় পণ্যের সঙ্গে প্রতিযোগিতায় টিকে থাকা প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়বে ইসলামাবাদ ও ঢাকার পক্ষে।
পাকিস্তানের আশঙ্কা ও ডনের রিপোর্ট: পাকিস্তানের প্রথম সারির সংবাদপত্র ‘ডন’-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে সেদেশের রফতানিকারকরা স্বীকার করে নিয়েছেন যে, ভারত একটি শক্তিশালী অর্থনৈতিক ফ্রন্ট তৈরি করে ফেলেছে। পাকিস্তানের মোট রফতানির ২০ শতাংশই যায় ইউরোপে, যা এখন সরাসরি হুমকির মুখে। একইভাবে বাংলাদেশের বস্ত্রশিল্প, যা ইউরোপের বাজারের ওপর নির্ভরশীল, তাও বড়সড় ক্ষতির মুখে পড়বে বলে মনে করা হচ্ছে।
ভারতের জয়যাত্রা: এই চুক্তির ফলে ভারতীয় ব্যবসায়ীদের সামনে এক বিশাল করিডর খুলে গেল। ভারতের রফতানি বাণিজ্য এক লাফে কয়েক গুণ বৃদ্ধি পাওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। পশ্চিমী দুনিয়ার বাজারে পাকিস্তান ও বাংলাদেশের ‘দোকান’ কার্যত বন্ধ করে দিয়ে ভারত এখন বিশ্ব অর্থনীতির চালকের আসনে।