এক প্লেট মোমোর দামে ৮৫ লক্ষের গয়না! সপ্তম শ্রেণির ছাত্রকে ফাঁদে ফেলে সর্বস্ব লুট করল দোকানিরা

উত্তরপ্রদেশের দেওরিয়া জেলায় ঘটে গেল এক অবিশ্বাস্য এবং চাঞ্চল্যকর অপরাধের ঘটনা। মাত্র কয়েক প্লেট মোমোর বিনিময়ে এক নাবালককে দিয়ে তার নিজের বাড়ি থেকেই প্রায় ৮৫ লক্ষ টাকার সোনা ও রূপার গয়না চুরি করাল একদল মোমো বিক্রেতা। রামপুর ফ্যাক্টরি থানা এলাকার এই ঘটনায় স্তম্ভিত পুলিশ প্রশাসন থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষ। অভাবনীয় এই জালিয়াতির শিকার হয়েছে ভগবানপুর তিওয়ারি গ্রামের এক পুরোহিতের পরিবার।
বারাণসীর একটি মন্দিরের পুরোহিত বিমলেশ মিশ্র জানিয়েছেন, তাঁর সপ্তম শ্রেণিতে পড়ুয়া ছেলে দেওরিয়ার বাড়িতে থাকত। ডুমরি মোড়ে অবস্থিত একটি মোমোর দোকানের মালিক ও কর্মীদের সঙ্গে ওই কিশোরের পরিচয় হয়। শিশুটির মোমো খাওয়ার প্রবল ঝোঁক ছিল, আর সেই দুর্বলতাকেই হাতিয়ার করে অভিযুক্ত তিন যুবক। অভিযোগ, তারা শিশুটিকে বিনামূল্যে এবং অতিরিক্ত মোমো দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে বাড়ির গয়না এনে দেওয়ার জন্য মগজধোলাই শুরু করে।
এই মরণফাঁদে পা দিয়ে অবুঝ শিশুটি বাড়ির আলমারি থেকে একে একে সব মূল্যবান গয়না বের করে অভিযুক্তদের হাতে তুলে দেয়। গত রবিবার যখন বিমলেশের বোন নিজের কিছু গয়না আলমারি থেকে নিতে যান, তখনই চুরির বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে। আলমারি ফাঁকা দেখে পরিবারের সদস্যদের মাথায় আকাশ ভেঙে পড়ে। শিশুটিকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে সে কান্নায় ভেঙে পড়ে এবং জানায় যে, মোমো খাওয়ার নেশায় সে ওই দোকানদারদের সব গয়না দিয়ে দিয়েছে। বিমলেশ মিশ্রের দাবি, চুরি যাওয়া গয়নার বাজারমূল্য প্রায় ৮০ থেকে ৮৫ লক্ষ টাকা।
এই ঘটনায় রামপুর ফ্যাক্টরি থানায় তিন যুবকের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, অভিযুক্তদের শনাক্ত করার কাজ চলছে এবং তারা পলাতক। মোমোর মতো সামান্য একটি খাবারের টোপ দিয়ে এত বড় চুরির ছক আগে কখনও দেখা যায়নি। পুলিশ ঘটনার প্রতিটি দিক খতিয়ে দেখছে এবং ওই কিশোরের মানসিক অবস্থা বোঝার চেষ্টা করছে। ৮৫ লক্ষ টাকার বিশাল ক্ষতির মুখে পড়ে বর্তমানে দিশেহারা ওই পরিবার।