চীনের একাধিপত্যে বড় ধাক্কা! ওড়িশা-অন্ধ্র-তামিলনাড়ুতে ভারতের ‘রেয়ার আর্থ’ করিডোর

২০২৬-২৭ অর্থবর্ষের বাজেটে ভারতের প্রযুক্তি ও প্রতিরক্ষা খাতের জন্য এক ঐতিহাসিক ঘোষণা করলেন কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামন। এবার চীনকে টেক্কা দিতে এবং ভারতকে প্রযুক্তির মহাসড়কে এগিয়ে নিতে ওড়িশা, তামিলনাড়ু এবং অন্ধ্রপ্রদেশে তৈরি হতে চলেছে ‘রেয়ার আর্থ করিডোর’। এই তিনটি রাজ্যে বিশেষ খনিজ উদ্যান এবং প্রক্রিয়াকরণ কেন্দ্র স্থাপনের জন্য বিশাল অঙ্কের বরাদ্দ করা হয়েছে।

কী এই ‘রেয়ার আর্থ’ এবং কেন এটি এত গুরুত্বপূর্ণ? ‘রেয়ার আর্থ’ বা বিরল মৃত্তিকা কোনো একক ধাতু নয়, বরং ১৭টি বিশেষ উপাদানের একটি শক্তিশালী গোষ্ঠী। আমাদের হাতের স্মার্টফোন থেকে শুরু করে ইলেকট্রিক ভেহিকল (EV), উইন্ড টারবাইন, মিসাইল, রাডার এবং সেমিকন্ডাক্টরের মতো উচ্চ প্রযুক্তিতে এগুলি অপরিহার্য। বর্তমানে ভারত তার প্রয়োজনীয় বিরল মৃত্তিকার প্রায় ৯০ শতাংশই চীন থেকে আমদানি করে। ২০২৪-২৫ সালে প্রায় ৪৩,৬১০ টন চুম্বক আমদানি করতে হয়েছে বেইজিং থেকে। এই অতিনির্ভরতা কাটাতে এবার কোমর বেঁধে নেমেছে ভারত।

কেন বেছে নেওয়া হলো ওড়িশা, অন্ধ্র ও তামিলনাড়ুকে? এর পিছনে রয়েছে ভৌগোলিক ও প্রাকৃতিক রহস্য। ভারতের এই তিন রাজ্যের উপকূলীয় বালিতে প্রচুর পরিমাণে ‘মোনাজাইট’ নামক খনিজ পাওয়া যায়, যা বিরল মৃত্তিকার বৃহত্তম প্রাকৃতিক উৎস।

  • উপকূলীয় সম্পদ: অন্ধ্রপ্রদেশের ৯৭৪ কিমি দীর্ঘ সমুদ্রতট এবং ওড়িশা ও তামিলনাড়ুর উপকূলীয় বালিতে লুকিয়ে আছে অমূল্য খনিজ ভাণ্ডার।

  • লজিস্টিক সুবিধা: উপকূলীয় রাজ্য হওয়ায় এখান থেকে উৎপাদিত পণ্য জলপথে দেশে-বিদেশে পরিবহন করা অত্যন্ত সহজ ও সাশ্রয়ী।

  • বিদ্যমান পরিকাঠামো: বিশাখাপত্তনম-সহ এই অঞ্চলগুলিতে ইন্ডিয়ান রেয়ার আর্থস লিমিটেড (IREL) আগে থেকেই সক্রিয়, যা নতুন প্রকল্প দ্রুত বাস্তবায়নে সাহায্য করবে।

মোদী সরকারের এই মাস্টারপ্ল্যান কেবল আমদানিতে খরচ কমাবে না, বরং ভারতের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে স্বাবলম্বী করবে এবং ইভি (EV) গাড়ির দাম কমিয়ে সবুজ শক্তির বিপ্লব ঘটাবে। আগামী ১০-২০ বছরের মধ্যে ভারত যাতে বিরল মৃত্তিকা উত্তোলনের পাশাপাশি তার প্রক্রিয়াকরণ ও পরিশোধনেও বিশ্বসেরা হতে পারে, তারই ব্লু-প্রিন্ট তৈরি হলো এই বাজেটে।