বেঙ্গালুরুতে মর্মান্তিক মৃত্যুমিছিল! ঘুমের মধ্যেই প্রাণ হারালেন অসমের ৪ শ্রমিক, নেপথ্যে কি গ্যাস সিলিন্ডার

পেটের টানে ভিনরাজ্যে কাজ করতে গিয়ে চরম ট্র্যাজেডি। বেঙ্গালুরুর হোসকোটে একটি বন্ধ ঘর থেকে অসমের চারজন পরিযায়ী শ্রমিকের নিথর দেহ উদ্ধার হয়েছে। প্রাথমিক তদন্তে পুলিশের অনুমান, ঘরের দরজা-জানালা বন্ধ থাকা অবস্থায় রান্নার গ্যাস বা ধোঁয়া ছড়িয়ে পড়ায় শ্বাসরোধ হয়ে তাঁদের মৃত্যু হয়েছে। এই ঘটনায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে অসমে। মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা মৃতদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়ে কর্ণাটক সরকারের কাছে ঘটনার উচ্চপর্যায়ের তদন্ত দাবি করেছেন।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রের খবর, মৃত চার যুবকই হোসকোটের কাছে একটি নামী পানীয় প্রস্তুতকারক সংস্থা ‘কোকা-কোলা’র গুদামে কাজ করতেন। সারাদিনের হাড়ভাঙা খাটুনি শেষে রাতে ওই খুপরি ঘরেই তাঁরা আশ্রয় নিতেন। পুলিশের প্রাথমিক তথ্য বলছে, শনিবার রাতে সম্ভবত রান্না করার সময় গ্যাসের উনুনটি কোনওভাবে জ্বলন্ত অবস্থায় থেকে গিয়েছিল। ছোট ওই ঘরে ভেন্টিলেশনের অভাব এবং দরজা-জানালা সব দিক থেকে আটকানো থাকায় কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই কার্বন মনোক্সাইড এবং বিষাক্ত ধোঁয়ায় ভরে যায় ঘরটি। ঘুমের ঘোরেই অবশ হয়ে আসে চার শ্রমিকের শরীর, পালানোর সুযোগটুকুও মেলেনি তাঁদের।

সকালে তাঁদের পঞ্চম সঙ্গী ঘরে ফিরে এসে দেখেন, চারজনই অচৈতন্য অবস্থায় মেঝেতে পড়ে আছেন। দ্রুত তাঁদের হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলেও চিকিৎসকরা মৃত বলে ঘোষণা করেন। বেঙ্গালুরু গ্রামীণ জেলার পুলিশ সুপার এমভি চন্দ্রকান্ত জানিয়েছেন, “প্রাথমিকভাবে এটি একটি দুর্ঘটনাবশত শ্বাসরোধের ঘটনা বলে মনে হচ্ছে। ঘরে অক্সিজেনের তীব্র অভাব দেখা দিয়েছিল।” তবে এর পিছনে অন্য কোনও কারণ আছে কি না, তা খতিয়ে দেখতে প্রতিটি দিক তদন্ত করছে ফরেনসিক দল। ভিনরাজ্যে কাজ করতে আসা শ্রমিকদের নিরাপত্তা এবং অত্যন্ত অস্বাস্থ্যকর ও ঝুঁকিপূর্ণ পরিবেশে বসবাসের বিষয়টিকে ফের একবার সামনে নিয়ে এল এই মর্মান্তিক মৃত্যু।