পুরো টাকাটাই জলে যাচ্ছে না তো? আসল ভেবে বিষাক্ত রাসায়নিক কিনছেন না কি? ৫ মিনিটে চিনে নিন খাঁটি কর্পূর!

পুজো-পার্বন থেকে গৃহপ্রবেশ, এমনকি রূপচর্চাতেও কর্পূরের গুণ অপরিসীম। ঘরোয়া পরিবেশে কর্পূর জ্বালালে যেমন ক্ষতিকারক ব্যাকটেরিয়া ধ্বংস হয়, তেমনই এর সুগন্ধে মন থাকে শান্ত। তবে গোল বেঁধেছে বাজারের ভেজাল নিয়ে। বর্তমানে ‘সিনামোমাম ক্যামফোরা’ গাছের বদলে সস্তা রাসায়নিক দিয়ে তৈরি হচ্ছে সিন্থেটিক কর্পূর। এই ভেজাল কর্পূরের ধোঁয়া ফুসফুসের বারোটা বাজাতে পারে, আর ত্বকে লাগালে হতে পারে মারাত্মক অ্যালার্জি।

আপনার কেনা কর্পূরটি খাঁটি নাকি বিষাক্ত রাসায়নিকের মিশ্রণ? সাংবাদিকের কলমে রইল আসল চেনার ৫টি মোক্ষম পদ্ধতি:

১. আগুনের পরীক্ষা: খাঁটি কর্পূর চেনার সেরা উপায় হলো এটি জ্বালিয়ে দেখা। আসল কর্পূর পুড়লে কোনও অবশিষ্টাংশ বা ছাই পড়ে থাকে না। এটি সম্পূর্ণ উবে গিয়ে বাতাসে মিশে যায়। কিন্তু নকল বা ভেজাল কর্পূর পুড়লে কালো ধোঁয়া বেরোয় এবং পাত্রে কালচে দাগ বা ছাই ফেলে যায়।

২. স্ফটিকের গঠন: আসল কর্পূরের গঠন অনেকটা স্বচ্ছ স্ফটিক বা ক্রিস্টালের মতো। এটি সহজেই আঙুলের চাপে ভেঙে ফেলা যায়। অন্যদিকে, সিন্থেটিক কর্পূর অতিরিক্ত সাদা, কালচে বা হলদেটে রঙের হয় এবং এটি ভাঙা বেশ কঠিন হতে পারে।

৩. ঘ্রাণেই পরিচয়: আসল বা ভেষজ কর্পূরের গন্ধে এক অদ্ভুত প্রশান্তি থাকে, যা নাকে লাগলে অস্বস্তি হয় না। কিন্তু কেমিক্যালযুক্ত নকল কর্পূর থেকে উগ্র এবং বিটকেল গন্ধ বেরোয়, যা অনেক সময় মাথাব্যথার কারণ হতে পারে।

৪. জলের জাদুকরী পরীক্ষা: একটি পাত্রে জল নিয়ে তাতে কর্পূরের টুকরোটি ফেলুন। খাঁটি বা ‘ভীমসেনি’ কর্পূর ওজনে ভারী হওয়ায় সঙ্গে সঙ্গে জলের নিচে ডুবে যাবে। কিন্তু ভেজাল মেশানো সিন্থেটিক কর্পূর দীর্ঘক্ষণ জলের উপরে ভাসতে থাকবে।

৫. খোলা বাতাসে পরীক্ষা: কর্পূর হলো উদবায়ী পদার্থ। একটি পাত্রে কিছুটা কর্পূর খোলা অবস্থায় ফেলে রাখুন। যদি তা আসল হয়, তবে কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই দেখা যাবে তার আকার ছোট হয়ে আসছে এবং ধীরে ধীরে তা উবে যাচ্ছে। ভেজাল মেশানো কর্পূরের আকার বা ওজনে কোনও বিশেষ পরিবর্তন হবে না।

বাজার থেকে কর্পূর কেনার সময় এই বিষয়গুলো মাথায় রাখুন। মনে রাখবেন, সস্তা দামের নেশায় বিষাক্ত ধোঁয়া ঘরে ডেকে আনা মানে নিজের এবং পরিবারের বড় ক্ষতি করা।