ধার করা স্কেটেই বিশ্বজয়! চণ্ডীগড়ের আইস ওয়ারিয়র্সের রূপকথা হার মানাবে সিনেমাকেও

কথায় আছে, ইচ্ছাশক্তি থাকলে আকাশ ছোঁয়াও সম্ভব। সেই প্রবাদকেই সত্যি করে দেখাল চণ্ডীগড়ের ‘আইস ওয়ারিয়র্স’। আন্তর্জাতিক আইস হকি টুর্নামেন্টে ইতিহাস তৈরি করল ভারতের এই দলটি। তবে এই জয়ের নেপথ্যে রয়েছে এক বুক ভাঙা লড়াই আর অবিশ্বাস্য ত্যাগের গল্প।

নিজের জুতোটুকুও ছিল না!

বিদেশের মাটিতে যখন অন্যান্য দেশের খেলোয়াড়রা অত্যাধুনিক সরঞ্জাম নিয়ে লড়াইয়ে নেমেছিলেন, তখন ভারতীয় দলের অনেক সদস্যের পায়ে ছিল না নূন্যতম আইস স্কেটিং করার জুতো। জানা গিয়েছে, এই খুদে খেলোয়াড়রা একে অপরের জুতো ভাগ করে নিয়ে অথবা অন্যের থেকে ধার করা স্কেট পরে বরফের ময়দানে নেমেছিল। আধুনিক পরিকাঠামোর অভাব থাকলেও, তাদের লড়াকু মানসিকতার কাছে হার মানতে বাধ্য হয়েছে প্রতিপক্ষ।

কেন এই জয় ঐতিহাসিক?

  • পরিকাঠামোর অভাব: চণ্ডীগড়ে প্র্যাকটিস করার জন্য পর্যাপ্ত আইস রিঙ্ক নেই, তবুও কৃত্রিমভাবে প্রতিকূল পরিস্থিতিতে নিজেদের তৈরি করেছে এই দল।

  • আর্থিক লড়াই: দলের অধিকাংশ সদস্যই সাধারণ মধ্যবিত্ত পরিবারের। টুর্নামেন্টে যাওয়ার খরচ থেকে শুরু করে কিট কেনা— সবক্ষেত্রেই ছিল চরম অনিশ্চয়তা।

  • সরঞ্জামের সংকট: আন্তর্জাতিক মানের টুর্নামেন্টে যেখানে কয়েক লক্ষ টাকার কিট লাগে, সেখানে ‘দেশি’ কায়দায় ধার করা সরঞ্জাম নিয়েই তারা বিশ্বমঞ্চে ভারতের তেরঙা উড়িয়েছে।

প্রশংসার জোয়ারে ভাসছে ‘আইস ওয়ারিয়র্স’

এই অভাবনীয় সাফল্যের খবর ছড়িয়ে পড়তেই সমাজমাধ্যমে অভিনন্দনের বন্যা বয়ে যাচ্ছে। নেটিজেনদের দাবি, ক্রিকেট বা ফুটবলের পাশাপাশি আইস হকির মতো খেলাতেও সরকারি সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেওয়া উচিত। যেভাবে চণ্ডীগড়ের এই যোদ্ধারা সীমিত সামর্থ্যে অসাধ্য সাধন করেছে, তা আগামী প্রজন্মের খেলোয়াড়দের জন্য বড় অনুপ্রেরণা হয়ে থাকবে।