সোনার দামে ঐতিহাসিক ধস! কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে ৯% পতন, বিনিয়োগকারীদের মাথায় হাত!

গত কয়েক সপ্তাহ ধরে রকেটের গতিতে বাড়ার পর অবশেষে সোনার বাজারে বড়সড় ধস। ৩০ জানুয়ারি বিকেল ৩:২৮ মিনিট নাগাদ এমসিএক্স (MCX) এক্সচেঞ্জে গোল্ড ফিউচার্সের দাম এক ধাক্কায় ৯ শতাংশ কমে ১,৫৫,৫৬৯ টাকা প্রতি ১০ গ্রামে নেমে আসে। গত ২৯ জানুয়ারি সোনা যখন ১.৮২ লক্ষ টাকার রেকর্ড উচ্চতায় পৌঁছেছিল, তখন একদিনের ব্যবধানে এই বিশাল পতন সাধারণ মধ্যবিত্ত থেকে শুরু করে বড় বিনিয়োগকারীদের চমকে দিয়েছে।

কেন হঠাৎ এই পতন? মূল কারণ কী?

বাজার বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ধসের নেপথ্যে রয়েছে প্রধানত দুটি বড় কারণ:

  • ডোনাল্ড ট্রাম্পের বড় চাল: মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইঙ্গিত দিয়েছেন যে, তিনি ফেডারেল রিজার্ভের পরবর্তী চেয়ারম্যান পদে এমন একজনকে নিয়োগ করতে চলেছেন যিনি মুদ্রানীতি নিয়ে অত্যন্ত কঠোর (Aggressive) হবেন। এর ফলে ডলার সূচক শক্তিশালী হতে শুরু করেছে। আন্তর্জাতিক বাজারে ডলার যত শক্তিশালী হয়, সোনার দাম সাধারণত ততটাই কমে।

  • ব্যাপক মুনাফা সংগ্রহ (Profit Booking): চলতি বছর জানুয়ারি মাসটি ছিল সোনার জন্য ঐতিহাসিক। ১ জানুয়ারি থেকে ২৯ জানুয়ারি পর্যন্ত সোনা প্রায় ২৮ শতাংশ রিটার্ন দিয়েছে, যা ১৯৭৩ সালের পর সর্বোচ্চ। একমাসে এত বেশি লাভের পর বিনিয়োগকারীরা বেশি দামে সোনা বিক্রি করে মুনাফা তুলে নিতে শুরু করেছেন, যার ফলে বাজারে বিক্রির চাপ বেড়ে দাম কমেছে।

বর্তমান বাজারের অবস্থা

বিকেল সাড়ে ৩টে নাগাদ ৯ শতাংশ পর্যন্ত পতন হলেও সন্ধ্যার দিকে বাজার কিছুটা ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করে। বিকেল ৫:৩৭ মিনিটে এমসিএক্স-এ সোনার দাম প্রায় ৪.৯৬ শতাংশ হ্রাসের পর ১,৬১,০০০ টাকা প্রতি ১০ গ্রামে ঘোরাফেরা করছিল। শুধু সোনাই নয়, রুপোর দামেও এদিন প্রায় ১৫ শতাংশের ধস লক্ষ্য করা গেছে।

এখনই কী সোনা কেনা উচিত?

বড় পতনের পর অনেক বিনিয়োগকারীই এটিকে সস্তায় সোনা কেনার সুযোগ হিসেবে দেখছেন। তবে বিশেষজ্ঞদের একাংশের মতে, আগামী কয়েকদিন ফেডারেল রিজার্ভের নতুন চেয়ারম্যান এবং ট্রাম্পের অর্থনৈতিক সিদ্ধান্তের দিকে নজর রাখা জরুরি। বাজার কিছুটা স্থিতিশীল হওয়ার পরই নতুন করে বড় বিনিয়োগের কথা ভাবা বুদ্ধিমানের কাজ হবে।