ভারতের সীমান্তে চিনের ‘মাস্টারপ্ল্যান’! বাংলাদেশে ১০ তলা বিশাল হাসপাতাল গড়বে বেজিং

ভারত সীমান্ত সংলগ্ন নীলফামারীতে বড়সড় পরিকাঠামো গড়ে তুলতে চলেছে বাংলাদেশ। শি জিনপিংয়ের দেশ চিনের প্রায় ২ হাজার কোটি টাকারও বেশি অনুদানে তৈরি হতে চলেছে একটি বিশাল ১০ তলা বিশেষায়িত হাসপাতাল। শনিবার বাংলাদেশের স্বাস্থ্য দফতর এই প্রকল্পের কথা ঘোষণা করেছে। অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে বাংলাদেশ ও চিনের এই ক্রমবর্ধমান ঘনিষ্ঠতা আন্তর্জাতিক মহলে বিশেষত ভারতের সীমান্তবর্তী এলাকায় নতুন করে চর্চার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।

চিনা অনুদানের বহর: বাংলাদেশের স্বাস্থ্যসচিব সাইদুর রহমান জানিয়েছেন, নীলফামারীর এই বিশেষ হাসপাতালটি তৈরিতে মোট খরচ হবে ২ হাজার ২৯২ কোটি টাকা। এই বিপুল অঙ্কের মধ্যে ২ হাজার ২১৯ কোটি টাকাই অনুদান হিসেবে দিচ্ছে চিন সরকার। বাকি মাত্র ৭৩ কোটি টাকা খরচ করবে বাংলাদেশ সরকার। গত বছর চিনা রাষ্ট্রদূতের যমুনা সফরের পরেই এই মেগা প্রকল্পের জট কাটতে শুরু করে। আগামী সপ্তাহে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) বৈঠকে এই প্রকল্পের চূড়ান্ত অনুমোদন মেলার সম্ভাবনা রয়েছে।

হাসপাতালের পরিকাঠামো: ১০ তলা এই ভবনে থাকবে অত্যাধুনিক চিকিৎসা সরঞ্জাম। হাসপাতালটির যন্ত্রপাতি কেনার জন্যই বরাদ্দ হয়েছে ৯৪৫ কোটি টাকা। এছাড়া ভবনের মূল কাঠামো নির্মাণে ব্যয় হবে ৮০২ কোটি টাকা। আধুনিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, নিজস্ব সোলার প্যানেল এবং সিসিটিভি-সহ উন্নত নিরাপত্তা ব্যবস্থার পাশাপাশি এখানে থাকছে হেলিপ্যাড এবং অটোমেটেড অ্যাম্বুল্যান্স সিস্টেম। লক্ষ্যমাত্রা রাখা হয়েছে, ২০২৮ সালের মধ্যেই এই হাসপাতালের কাজ সম্পূর্ণ হবে।

কূটনৈতিক গুরুত্ব: ভারতের সীমান্ত ঘেঁষা এলাকায় চিনের এই বিপুল লগ্নিকে কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল। নীলফামারী ছাড়াও চট্টগ্রামে একটি জেনারেল হাসপাতাল এবং ঢাকায় একটি পুনর্বাসন কেন্দ্র তৈরির পরিকল্পনা রয়েছে এই প্রকল্পের আওতায়। অবকাঠামো চিনা ইঞ্জিনিয়াররা তৈরি করে দিলেও, সেখানে স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগ করবে বাংলাদেশ সরকার। দক্ষিণ এশিয়ায় চিনের এই ক্রমবর্ধমান প্রভাব ও সীমান্তবর্তী এলাকায় পরিকাঠামো উন্নয়ন আগামী দিনে ভূ-রাজনৈতিক সমীকরণকে কোন দিকে নিয়ে যায়, এখন সেটাই দেখার।